অর্চি’র ডাক্তার হবার স্বপ্ন পূরণ হবে তো?

স্টাফ রিপোর্টার
উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি (সতীশ চন্দ্র) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করা অর্চি। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পেলেও পরিবারের আর্থিক সংকট নিয়ে চিন্তিত এই শিক্ষার্থী।
সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ার বাসিন্দা দ্বীজেন্দ্র দত্ত ও লক্ষী দত্তের ৫ ছেলে মেয়ের ছোট মেয়ে অর্চি (বিপি দত্ত অর্চি)। সরকারি এসসি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। এর আগে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছিল অর্চি।
অর্চি জানালো, তার বাবা একসময় সুনামগঞ্জ শহরে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। বার্ধক্যের কারণে এখন তিনি কিছুই করতে পারছেন না। বড় তিন বোনকে আত্মীয়-স্বজন শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বিয়ে দিয়েছেন বাবা মা।
বড় ভাই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে একটি কোম্পানীর সুনামগঞ্জের শো-রুমে ছোটখাটো চাকুরি করছে। তার সামান্য আয় দিয়েই বাসা ভাড়াসহ মা বাবা, ভাই- বোনের সংসার চলছে তাদের।
অর্চি বললো, সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকেই শিক্ষকদের সহযোগিতা পাচ্ছিল সে। সর্বশেষ নবম ও দশশ শ্রেণিতে বিনা ফি’তেই প্রাইভেটও পড়েছে সে।
এইচএসসিতে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পেয়ে খুশি অর্চি। অর্চি ডাক্তার হতে চায়। আর্থিক সংকট স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি-না এই অনিশ্চতায় সময় কাটছে এই শিক্ষার্থীর।
বাবা দ্বীজেন্দ্র দত্ত বললেন, ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে পাওয়া বৃত্তির টাকা দিয়েই বই, খাতা, কলম কিনেছে মেয়ে আমার। সামান্য সহযোগিতা পেলেই ভাল ফল করবে সে।