নৌকা বিরোধী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এখনও নেই দলীয় ব্যবস্থা

গোলাম সরোয়ার লিটন
সপ্তম ধাপের ইউ/পি নির্বাচনী প্রচারণা চলছে তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে। উপজেলায় ভোট হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসাবে ৫টি ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেতারা । আবার কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু নেতা প্রকাশ্যে মিছিল সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এ সকল নেতাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১২ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ওই দিন থেকেই উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগকে অনুরোধ করছি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে। দুই দিন পরেই নির্বাচন কিন্তু আজো কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে নির্বাচনে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ সকল শাস্তিমুলক ব্যবস্থা আটকে রাখছেন।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, এক শ্রেণির মানুষ দল করে নিঃস্ব হয়। আরেক শ্রেণি সুবিধাভোগী হয়েছে। কিন্তু দলের প্রয়োজনে সুবিধাভোগীরা থাকে না। আর দলও এদের বিরুদ্ধে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এজন্যই শক্তিশালী অবস্থানের সুযোগ থাকলেও তাহিরপুরে দলের অবস্থান নড়বড়ে। জনপ্রিয় দলীয় প্রার্থীরাও পরাজিত হয়। আশা করছি এ বছর এমনটি হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ কর্মী নিজাম উদ্দিন। এ বছর নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আফতাব উদ্দিন। এ বছরও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবেই নির্বাচন করছেন। এ প্রসঙ্গে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মো. সুজাত মিয়া বলেন, এদের বিরুদ্ধে দ্রুতই দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, দলের সুবিধা পেয়ে ওরা ভাগ্য পরিবর্তন করেছে কিন্ত দুঃসময়ে ওরা দলের পাশে নেই।
একইভাবে উত্তর বড়দল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুক মিয়া । দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মহিবুর রহমান রুবেল। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো.ইউনুছ আলী। এ বছর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন আজাদ হোসেন। এখন তিনি ওই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সুত্র জানায়, নিজাম উদ্দিন ও আজাদ হোসেন আওয়ামী লীগ বা আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন সদস্য পদ নেই। তাই তাদের বহিস্কার করারও সুযোগ নেই। আজাদ হোসেন নিজেকে স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিলেও এ নামে আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই।
এছাড়াও বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ হোসেনের পক্ষে বিভিন্ন সভায় বক্তব্য দেওয়াসহ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন- তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সামাযুন কবির, বালিজুরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য মাফিকুল ইসলাম মোল্লা।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর বলেন, ইতিমধ্যেই মো. ইউনুছ আলী, আফতাব উদ্দিন এবং মাসুকের বিরুদ্ধে দলীয় সিন্ধান্ত জেলায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়েও দ্রুতই সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর (অমল কান্তি কর) বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
জেলা যুবলীগের আহবায়ক খাযয়রুল হুদা চপল বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তাদের বিষয়টি কেন্দ্রকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অন্যদের বিষয়েও খোঁজ খবর নিয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।