Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে একুশে পদক পাচ্ছেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে একুশে পদক পাচ্ছেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

স্টাফ রিপোর্টার
‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে একুশে পদক পাচ্ছেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ। কবি কামাল চৌধুরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক চলতি বছর (২০২২) একুশে পদক পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। এ বছর ভাষা আন্দোলনে দুজন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে চারজন, শিল্পকলায় সাতজন, ভাষা ও সাহিত্যে দুজন, সমাজসেবায় দুজন, গবেষণায় চারজন (দলগতভাবে তিনজন) একুশে পদক পাচ্ছেন। এছাড়া সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষায় একজন করে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ একজন শিশুসাহিত্যিক ও গীতিকার। শিশুসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালের বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
ঝর্না দাশ পুরকায়স্থ সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চল সুখাইরের জমিদার পরিবারে ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুধাংশু শেখর চৌধুরী ও মা নীলিমা চৌধুরীর প্রথম সন্তান। সরকারী এস সি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে মেট্রিক, ১৯৫৯ সালে সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। স্বামীর কর্মস্থল রাজশাহীতে অবস্থানকালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হন ১৯৭৬ সালে। মাস্টার্সে নাইট ক্লাসে ভর্তি হন। সমাপনী পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। বিএ ক্লাসে ভর্তির কিছুদিনের মধ্যে শৈলেন্দ্র শেখর দাশ পুরকায়স্থের সাথে বিয়ে হয়। পারিবারিক জীবনে তিনি চার সন্তানের জননী। বর্তমানে ঢাকায় আছেন।
“চিন্তামনি মাঠা, লক্ষীবিলাস দৈ নেবেন নিগো-” দুই কাঁধে ভার নিয়ে বয়ে যাওয়া ফেরিওয়ালার হাঁক। স্বপ্নের মাঝে সেই মাটির গন্ধমাখা সুর- এখনও তিনি শুনতে পান। দৈ আর মাঠার সাথে থাকত কাঁচের বয়ামে রসে ডুবানো রসগোল্লা। ভাল-মন্দ বুঝার বয়স না হওয়ায় শুধু মনে হতো এর চেয়ে সুস্বাদু খাবার পৃথিবীতেই আর নেই- এমন সুখস্মৃতির কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রজন্ম প্রত্যাশায় বলেছেন, “নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে কিশোর বয়সেই, তথ্য প্রযুক্তিতেও ওরা পারদর্শী হয়ে ওঠে অল্প বয়সে – খুব ভাল দিক এটি। এর সাথে যদি সহমর্মিতা বোধের যুগলবন্দি ঘটে তবে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে ওরা। নতুন প্রজন্মের কাছে সহমর্মিতাবোধের প্রত্যাশা করি।”
১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রথম স্বরচিত বাংলা কবিতা পড়ে সম্মাননা লাভ করেন ঝর্না দাশ পুরকায়স্থ। উপমহাদেশের স্বনামধন্য কথা সাহিত্যিক ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের শিশুতোষ বইসহ অনেক প্রসিদ্ধ উপন্যাস ও গল্পের বই এবং প্রবন্ধ রয়েছে। সুদীর্ঘ সময়ব্যাপী বাংলা সাহিত্যের চর্চায় রত এই সুলেখিকা বিভিন্ন সময়ে নানান পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য মোট বই বের হয়েছে ৩৬ টি, উপন্যাস ১০ টি, ছোট গল্প ১৫ টি। এজন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন নানা সংগঠন থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাজেদুন্নেসা খাতুন চৌধুরী সাহিত্য পদক ১৪০১ বাংলা, বাংলাদেশ জাতীয় সাহিত্য পরিষদ ও সমাজ সেবা পদক ১৯৯৪, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক ১৯৯৬, কমর মুশতারী স্মৃতি পুরস্কার ১৯৯৮, সিলেট লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক ২০০০, আগুনের ফুলকী শিশু উন্নয়ন পুরস্কার (শিশু সাহিত্য) ১৯৯৯, রিআ্যাফ সাহিত্য পুরস্কার ২০০২, আশরাফ সিদ্দিকী ফাউন্ডেশন সাহিত্য পদক ২০০২, ঢাকা সাহিত্য সংস্কৃতি গোষ্ঠি গোল্ড মেডেল পদক ২০০৩, কবি সংসদ বাংলাদেশ পদক ২০০৮ ১১.আলোয় ভূবনভরা বিজয় দিবস সম্মাননা পুরস্কার ২০০৪, এম নূরুল কাদির শিশু সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৩১৫বাংলা, নন্দিনী সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯, অগ্রনী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার, লেডিস ক্লাবের ৬১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সম্মাননা। এছাড়াও তিনি আজীবন সদস্য বাংলা একাডেমীর, লেখিকা সংঘ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ লেখক সংঘের। রেডিও টেলিভিশনের মনোনীত গীতিকার তিনি।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- ভূত ও টুনটুনের স্বপ্ন (১৯৯১), ডালির মেম পুতুল (১৯৯৩), ইভানের কাজলা দিদি (১৯৯৪), রং মাখা শার্ট (১৯৯৫), মুশকিল আসান মামা (১৯৯৫), টুসি আমার টুসি (১৯৯৫), লালুর মুক্তিযুদ্ধ (১৯৯৭), মেঘ জোছনায় টুপুর (২০০১), টুলটুলের রঙ্গিন বেলুন (২০০২), টক ঝাল মিষ্টি গল্প ও (২০০৪), এসো ভালোবাসা (২০১৫) ।
একুশে পদক পাচ্ছেন যারা
‘ভাষা আন্দোলন’ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পাচ্ছেন মোস্তফা এম এ মতিন (মরণোত্তর) ও মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল (মরণোত্তর)।
‘শিল্পকলা’য় পদক পাচ্ছেন জিনাত বরকতউল্লাহ (নৃত্য), নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর) (সংগীত), ইকবাল আহমেদ (সংগীত), মাহমুদুর রহমান বেণু (সংগীত), খালেদ মাহমুদ খান (খালেদ খান) (মরণোত্তর) (অভিনয়), আফজাল হোসেন (অভিনয়), মাসুম আজিজ (অভিনয়)।
‘মুক্তিযুদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরণোত্তর), কিউ এ বি এম রহমান, আমজাদ আলী খন্দকার পদক পাচ্ছেন।
এছাড়া ‘সাংবাদিকতা’য় এম এ মালেক, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’তে মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ একুশে পদক পাচ্ছেন।
‘সমাজসেবা’য় একুশে পদক জিতে নিয়েছেন এস এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথের। কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ ‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্ষেত্রে পদক পাচ্ছেন।
এছাড়া ‘গবেষণা’য় ড. মো. আবদুস সাত্তার মন্ডল এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবিষ্কারের জন্য দলগতভাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. এনামুল হক (দলনেতা), ড. সহানাজ সুলতানা ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ চার লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে চালু করা একুশে পদক সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্যবিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে।