রাজধানীর উত্তরার একটি খাল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০৮টি পিস্তল, ১ হাজারের বেশি গুলি এবং কয়েকশ ম্যাগজিন, শতাধিক গুলি তৈরির ছাঁচ ও বেয়নেট। রবিবার আরও ৩২টি ম্যাগাজিন ও অস্ত্র পরিষ্কার করার আটটি গানক্লিনার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো সচল এবং এসব অস্ত্রের সঙ্গে জঙ্গিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের মিল পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। যদি তাই হয় তাহলে বলা যায়, জঙ্গিদের একটি বড় অস্ত্র মজুদ আটক হলো। জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের ভয়ে অস্ত্রগুলো খালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধরণা করছে পুলিশ। সেটা হওয়াও খুবই সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেশে নাশকতার কাজে ব্যবহার করার জন্যই মজুদ করা হয়েছে এবং এরকম অস্ত্র মজুদ আরো অনাবিষ্কৃত রয়েছে একম আশঙ্কা করা খুবই স্বাভাবিক।
অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া সম্পর্কে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দক্ষিণখান থানা থেকে তুরাগ থানায় বদলি হওয়া এক কনস্টেবল দুপুরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওই খালপাড় দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় সন্তানকে প্র¯্রাব করাতে গিয়ে নম্বর প্লেটবিহীন একটি কালো পাজেরো জিপ এবং তার পাশে চার-পাঁচজন লোককে দেখেন তিনি। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তুরাগ থানায় ফোন করেন ওই কনস্টেবল। পরে তুরাগ থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিয়ে খালে তল্লাশি চালায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা প্লাস্টিক বোট নিয়ে খালের পানিতে নেমে পড়ে। সেখানে ছয়টি সার্চ লাইট জ্বালিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে একের পর এক উদ্ধার হতে থাকে ট্রাভেল ব্যাগ। আর ব্যাগ খুলতেই সবার চোখ ছানাবড়া। এমন খবরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন পুরো এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে। পুরো এলাকায় আলোকিত করে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চলে। অভিযানে খাল থেকে উদ্ধার হয় আটটি বড় সাইজের ট্রাভেল ব্যাগ। আর সেই ব্যাগগুলোর ভেতরে পাওয়া যায় অস্ত্র গোলাবারুদের ছোট-বড় ১০৪টি বাক্স। এখন বড় পশ্ন হলো এই অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এবং কী করে এগুলো দেশে এলো? তারপর রাজধানীর সব চেকপোস্ট কী করে ফাঁকি দিয়ে এই অস্ত্র-বারুদ বহন ও মজুদ করা সম্ভব হলো?
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল প্রেস ব্রিফিং এ জানান,‘রাজধানীর উত্তরায় খালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি কোনো সাধারণ সন্ত্রাসীদের নয়। বড় ধরনের নাশকতার জন্য এগুলো মজুদ করা হয়েছিল।’ দেশব্যাপী যখন চলছে গুপ্তহত্যা, তখন রাজধানীতে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার খুবই তাৎপর্যবহ। বড় ধরনের নাশকতা চালাতে এই অস্ত্র গোলাবারুদগুলো মজুদ করা হতে পারে। অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ায় সেই আশঙ্কা দূর হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার একটি বড় সাফল্য হলেও এর রহস্য উন্মোচন জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র কোথা থেকে এলো, কাদের কাছ থেকে এলো, সব রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে।
- শ্মশানঘাটের কোটি টাকার ভূমি গ্রাস করার চেষ্টা করছে ভূমি খেকোরা
- একাদশে অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মেধা তালিকা ২৪ জুন

