আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, আইনজীবীদের সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকরাও কথা বলেছেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করব। আমাদের কেউ অসৌজন্যমূলক বা অসংযত আচরণ করে থাকলে, যাচাই করে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদশীর্ আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা জানান, সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের একটি বিচারিক আদালতে মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেন দুজন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য মামলার আলামত রেখে এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এতে ওই আদালতের বিচারক অসন্তুষ্ট হন। পরে ওই পুলিশ সদস্যকে ডেকে এনে এজলাস কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় এজলাস কক্ষের বাইরে থাকা পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তখন আদালত কক্ষের বাইরের সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের ওপর পুলিশ সদস্যারা চড়াও হন।
আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদস্যরা তখন খুবই উত্তেজিত ছিলেন। তিনি যখন মুঠোফোনে বের করে সেই দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করেন একজন পুলিশ সদস্য তাকে জাপটে ধরে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাকে ওই পুলিশ সদস্য গালিগালাজও করেন। আধঘণ্টা পর চানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আইনজীবী এ আর জুয়েলসহ আরও কয়েকজন সংবাদকমীর্ ও আইনজীবী পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে আমিনুল ইসলামের মুঠোফোন আনতে গেলে তর্ক জুড়ে দেন দু’জন পুলিশ সদস্য। এক পর্যায়ে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন তাঁরা। সাংবাদিক এ আর জুয়েল বলেন,‘আমরা তাঁদের কাছে মুঠোফোন ফেরৎ চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা বারবার এখন না, পরে করছিলেন। তাঁরা এক পর্যায়ে আমাদের সরিয়ে দিতে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।’
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক সমিতি ভবনে বৈঠক করেন। পরে ওই বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারাও যোগ দেন। আইনজীবীরা তখন এ ঘটনায় জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গে যে আচরণ করছেন সেটিতে আমরা ক্ষুব্ধ। পুলিশ সদস্যদের কাছে পেশাদারী আমরা আশা করি। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছি। তিনি আশ^স্ত করেছেন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রবিউল লেইস রোকেস জানান, বিষয়টি শুনেই আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক বৈঠক করেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা আসেন। তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন, যারাই এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন,‘পুলিশ সদস্যরা যে আচরণ করেছেন সেটা পেশাদার নয়। এ কারণেই আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।’