আগামীকাল কৃষক-জনতার সমাবেশ ও পাউবো অফিস ঘেরাও কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার
‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) কৃষক-জনতার সমাবেশ ও পাউবো অফিস ঘেরাও কর্মসূচি।
সামাজিক সংগঠন ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে। কৃষক জনতার সমাবেশ ও সুনামগঞ্জ পাউবো অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।  
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন-এর সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার বলেন,‘ এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জের লাখ লাখ ফসলহারা কৃষক পরিবারে চলছে আহাজারি-হাহাকার। এ রকম মহাদুযোর্গে সুনামগঞ্জের মানুষ কখনো পড়েনি। কখনো এভাবে এই চৈত্র মাসে কাঁচা ধান হারাতে হয়নি সুনামগঞ্জের কৃষকদের। পাহাড়ি ঢলে একের পর এক হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার প্রায় ৯০ভাগ বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ফসলহারা মানুষ এখন দিশেহারা। তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। শ্রমে-ঘামে ফলানো সোনার ফসল চোখের সামনে ভেসে গেছে। ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও পিআইসির লোকজন লাখ লাখ কৃষকের সঙ্গে তামাসা করেছে। তাদের গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণেই কৃষকদের স্বপ্ন ভেসে গেছে ঢলের পানিতে। আমরা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁেধর কাজে নিয়োজিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার চাই। আমাদের দাবি অবিলম্বে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য রেশনিং কার্ড চালু এবং সারা বছর খোলা বাজারে সরকারের উদ্যোগে চাল ও আটা বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জিজিডি, ভিজিএফ চালু রাখতে হবে। কৃষি ঋণ মওকুফ করতে হবে। হাওরের ভাসান পানিতে আগামি এক বছর ফসলহারা কৃষকদের মাছ ধরার সুযোগ দিতে হবে। আগামি ফসল লাগানোর আগে কৃষকদের সার ও বীজের ব্যবস্থা করতে হবে। বাঁধ নির্মাণে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।