আগামী ৪দিন বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
টানা কয়েকঘন্টা ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন এসব এলাকার বাসিন্দারা। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ফলেই এরকম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৪ দিন সুনামগঞ্জে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিপাতে পৌরশহরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পৌরশহরের কাজীর পয়েন্ট, নতুনপাড়া, শান্তিবাগ, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই রোড, পশ্চিম তেঘরিয়া, জেলরোডসহ কিছু নিচু এলাকার সড়কসহ অনেকের বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করে। তবে এই পানির স্থায়িত্ব বেশি ছিলো না। কিছু বাসা বাড়িতে পানি উঠলেও কয়েকঘন্টার মধ্যে নেমে গেছে। রাত থেকে চলমান বৃষ্টিপাতে ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সুরমা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে ১৯, ২০ ও ২২, ২৩ তারিখে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। তবে ২১ তারিখ আবহাওয়ার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে দোয়ারাবাজার, ছাতক, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার এই ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে দোয়ারাবাজার উপজেলায়।
মঙ্গলবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়ক ডুবে পানিবন্দি হয়ে পড়েন পুরাতন জেলরোডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযুদ্ধা মৃত বাসন্তি করের পরিবার সহ প্রায় একই এলাকার ১০-১৫ টি পরিবার। কারো কারো ঘরের ভেতরও প্রবেশ করে বৃষ্টির পানি। পুরাতন জেল রোডের বাসিন্দা রেনু সরকার বলেন, সারারাতের বৃষ্টির পর সকালে পানি ঢুকে গেছে। একরাতেই বন্যা পরিস্থিতির মতো হয়ে গেছে। সকালে উঠে সব জিনিসপত্র উপরে তুলতে হইছে। আগে বন্যায় মারছে এখন বৃষ্টিও মারে।
একই এলাকার মালা ধর বলেন, আগে বৃষ্টি হলে ড্রেন দিয়ে সে পানি চলে গেছে। আজকে ড্রেন দিয়ে ও পানি যাচ্ছে না। ১৫ জুনের পর থেকে বন্যা পিছু ছাড়ছেনা। এবার তো বন্যা ছাড়াই বৃষ্টির পানিতে আমরা ডুবে গেছি। কিভাবে, কোনদিন পানি থেকে মুক্তি পাবো জানিনা।
বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মোটরসাইকেল মেরামত দোকানী রাজু আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি হুট করে দোকানেও ঢুকে গেছে। তাড়াতাড়ি করে নিচের মালামাল উপরে তুলছি। এভাবে যদি বৃষ্টি হলেই দোকানে পানি ঢুকে তাহলে ব্যবসা করবো কিভাবে।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালি কৃষ্ণ পাল বললেন, বন্যার কারণে কিছু ড্রেনেজের ভিতরে ককসিট, আবর্জনা জমে বন্ধ হয়েছিলো। এজন্য মঙ্গলবার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন আর জলাবদ্ধতা তৈরি হবার সম্ভবনা নেই। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও সেটির স্থায়িত্ব হবে না।
সিলেটের আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন, সুনামগঞ্জের আবহাওয়া পূর্বাভাস ভালো নয়। ১৯ রাত থেকে শুরু বৃষ্টিপাতে আরও বেশি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত টানা ২০ তারিখ পর্যন্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ২১ তারিখ তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ২২ ও ২৩ তারিখে আবারও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতকে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে দোয়ারাবাজার উপজেলায়।