বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের সরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মন্দিরগুলো ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বাসা, বাড়িতে গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এসব গ্রাহকদের কাউকে কাউকে খুঁজেই পাচ্ছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। আবার বিদ্যুৎ আদালতে মামলা দায়ের করেও কারো কারো কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে পারছে না স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এসব বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য আজ থেকে মাইকে প্রচারণা, পর্যায়ক্রমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান এবং স্থানীয় পত্রিকায় বকেয়াধারীদের নাম, পিতার নামসহ তালিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, মিল, কারখানা, বাসা, বাড়ি’র দুই হাজার ৭৯৯ জন গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এসব গ্রাহকদেরকে একাধিকবার চিঠি, বিলে সতর্কীকরণ সীল দেওয়া হলেও তারা আমলে নেন নি। বাধ্য হয়ে প্রায় ৮শ’ গ্রাহকের উপর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মামলা দায়ের করে। তাতেও অনেক গ্রাহকের নিকট থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় হয় নি। এই অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য মাইকে প্রচারণা চালাবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এক সপ্তাহ শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় এই মাইকিং চলবে। পরে শুরু হবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান। অভিযান চলাকালীন সময়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও যারা বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করছে তাদের নামও পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মচারী জানান, গত বছরও চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় ৩০ টির মতো অবৈধ লাইন পাওয়া যায়। এরা মিটারের সংযোগস্থলের উপরে তারে জোড়া দিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করে, আবার কেউ কেউ মূল লাইন থেকে তার জোড়া দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই কর্মচারী জানান, বিদ্যুৎ চোরদের সঙ্গে অফিসেরও কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজস থাকে। অভিযান পরিচালনার সময় এরা আগে জানিয়ে দেয়।
সুনামগঞ্জ বিদ্যু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকরাম হাসান চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির ৩৫৪ জন গ্রাহকের বিলে ত্রুটি রয়েছে। এই গ্রাহকদের বিল সংশোধন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, মসজিদ, মন্দির ব্যতিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ি’র মালিক দুই হাজার ৭৯৯ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য মঙ্গলবার থেকে পর্যায়ক্রমে মাইকে প্রচারণা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান, স্থানীয় পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বকেয়াধারীদের নাম, পিতার নাম প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


