আজ বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী

জগন্নাথপুর অফিস ও বিশেষ প্রতিনিধি
‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে / কিংবা জবা কুসুম সন্ধ্যামালী আনরে তুলিয়া মনোরঙ্গে সাজাও কুঞ্জ সব সখি মিলিয়া / ভোমর কইও গিয়া, শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদে রাধার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া, প্রাণ সখি রে, ঐ শোন কদম্বতলে বাঁশি বাজায় কে’- কবি রাধারমণ দত্ত অমর হয়ে আছেন তাঁর এমনসব জনপ্রিয় ধামাইল গানের জন্যে। আজ বৃহস্পতিবার সহজিয়া দর্শনের দিকপাল বৈষ্ণবভাব আন্দোলনের অগ্রপথিক রাধারমণের দত্তের ১০১ তম মৃত্যুবার্ষিকী। গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী রাধারমণ দত্ত উপমহাদেশের বাংলাভাষি মানুষের কাছে জনপ্রিয় লোককবি। এই বাউল সাধক সহজিয়া ভাবরসের ধারায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গান রচনা করেছেন। তার কালজয়ী কুঞ্জ সাজানোর গান অন্যান্য ভাষার শিল্পীরাও গেয়ে থাকেন। কবির শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গত বছর রাধারমণের  শেষ স্মৃতিচিহৃ সমাধি কুঞ্জের বেহাল দশা ঘুচাতে এবং রাধারমণের সৃষ্টি ধরে রাখতে এবং সঙ্গীত চর্চার পরিবেশ তৈরির জন্য জগন্নাথপুরে রাধারমণ কমপ্লেক্স করার দাবি জানানো হলেও এক বছরে তেমন কিছু হয়নি।
দেশের লোক সংষ্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র গীতিকবি রাধারমণ দত্তের জন্ম ১৮৩৩ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের কেশবপুর গ্রামে। পারিবারিকভাবে প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক রাধারমণ দত্ত জীবনে কখনও এসবের প্রতি খেয়াল দেননি। ঘরবাড়ি, সংসার ফেলে কৈশোর থেকেই কৃষ্ণ বিরহকে উপজীব্য করে গান রচনায় মগ্ন হন তিনি। ভজন সঙ্গীতের অমূল্য গীতসম্ভার রচনা করেছেন এই সাধক কবি। নলুয়ার হাওরে আশ্রম স্থাপন করে তিনি গান রচনা করতেন, আর গাইতেন, শুনে শুনে ভক্তরা তা মুখস্থ রাখতেন। প্রেম-বিরহ, সাধন-ভজন, জ্ঞাতব্য ও কর্তব্য সবকিছুই আবর্ত হয়েছে রাধারমণের গানে। ১৮৯১ সালে বাংলা ১৩২৩ বঙ্গাব্দের ২৬ কার্তিক ৮৩ বছরে বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাধারমণ অনুরাগীরা মনে করেন এখনও খুঁজলে রাধারমণ দত্তের অপ্রকাশিত গান বের হবে। রাধারমণের এবারের মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নিরবেই কাটছে। ভক্তদের দাবি রাধারমণের অপ্রকাশিত গান খুঁজে বের করা, রাধারমণের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার করে রাধারমণ সঙ্গীত চর্চার জন্য রাধারমণ একাডেমী বা কমপ্লেক্স করা বহুদিনের দাবি।
রাধারমণ অনুরাগী রাজনীতিক আতম সালেহ্ বলেন,‘এতো বড় মাপের একজন সাধক কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠান থাকবে না এটি আমাদের দৈন্যতা। এই দৈন্যতা কাটাতে হলে রাধারমণ সঙ্গীত চর্চার জন্য একাডেমি করতে হবে। রাধারমণের বেহাত হওয়া সম্পদও উদ্ধার করে রাধারমণের সঙ্গিত চর্চায় কাজে লাগাতে হবে’।
জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন বলেন,‘রাধারমণের জন্ম শতবার্ষিকীতেই রাধারমণ কমপ্লেক্স’র জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। রাধারমণের বেহাত হওয়া জমিও দখলমুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে আবারও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানানো হবে’।