আজ ভোট গ্রহণ, ৫১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি ও আবু হানিফ, দিরাই
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ (বৃহস্পতিবার)। ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৩১ জন ভোটার ১১০ টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন।  নির্বাচনে ৫১ টি কেন্দ্রকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং ৫৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেষ মূহূর্তে বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. জয়া জয়া সেন গুপ্তা’র (নৌকা) পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছেন,‘আমরা আশংকা করছি, অরাজনৈতিক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় কাল ভোট গ্রহণের সময় অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যারিস্টার ইমন বলেন,‘স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন প্রচারণার শুরুতেই কিছু বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন। প্রথম থেকেই সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক কথা বার্তা বলে দিরাই-শাল্লা’র যুগ যুগের অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছেন তিনি, ভোট গ্রহণের দিন কোন কোন কেন্দ্রের পরিবেশ নষ্ট করতে পারেন এই প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা।’
গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ   
 রায়, দিরাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু’র (সিংহ মার্কা) পক্ষে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন বুধবার বিকালে এ প্রতিবেদককে বলেছেন,‘আমাদের এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য বুধবার দুপুরে আমাদের প্রার্থী সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তাঁর (রেজু’র) পক্ষে একাধিক এজেন্ট চেয়েছেন। আমরা চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট হোক।’
এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃংখলা বাহিনী’র পক্ষ থেকে। দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার লক্ষ্যে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়ান থাকবে নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্বে। দিরাই উপজেলায় ১০ জন ও শাল্লায় ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃংখলা বাহিনীর ৩ হাজার ২৫৭ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পুলিশ সদস্য ১৩৭০ জন, র‌্যাব ১৩৭ জন, বিজিবি ১২০ জন, আনসার ব্যাটলিয়নের ৫০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৪০ জন ও ১৫৪০ জন আনসার সদস্য নির্বাচনের মাঠে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে কাজ করবে।
সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, দিরাই-শাল্লা উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম এজহারুল হক বলেন,‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই। ১১০ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫১ টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৯ টি সাধারণ বিবেচনায় রেখেছি আমরা। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৪ প্লাটুন বিজিবি ও ১৫ টি র‌্যাব দল কাজ করছে। সকলকে আচরণবিধি মেনে চলতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গ. গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মৃত্যুর পর এই আসনের উপ-নির্বাচন ঘোষণা করা হয়।