স্টাফ রিপোর্টার
আজ ভোট। এক মাসের প্রচারণা শেষে জেলা পরিষদের এই নির্বাচন। ভোটের আগের রাত (মঙ্গলবার) প্রার্থী-সমর্থকদের ¯œায়ুচাপ ও উত্তেজনায় কেটেছে। জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে টাকা বিতরণ ঠেকাতেও প্রার্থীরা নানা কৌশলী ভূমিকায় ছিলেন। এদিকে, জেলার ১৫ টি কেন্দ্রকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় রাখতে নিরাপত্তার চাদর বিছানো থাকবে আজ। এই নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন তাঁরা ৫ বছর (প্রথম সভা থেকে ৫ বছর) জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। চূড়ান্ত বেসরকারী ফলাফল সমান সমান হলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে লটারীর মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৫ টি কেন্দ্র হচ্ছে তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, মধ্যনগর বিপি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, ধর্মপাশা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, জামালগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বম্ভরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শাল্লার শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুরের কলকলিয়া শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া আলীম মাদ্রাসা, দোয়ারাবাজারের দোহালী প্রগতি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়, দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ছাতক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ। ১৫ টি ওয়ার্ডের ৩০ টি ভোট কক্ষে ৯৩০ জন পুরুষ এবং ২৮৫ জন নারী ভোটার ভোট দেবেন।
এই ১৫ টি কেন্দ্রকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ৪ টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ক্লাস্টারে ১ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটসহ) ১৫ টি কেন্দ্রে ১৫ জন ম্যাজিষ্ট্রট, প্রতি কেন্দ্রে ১০ জন পুলিশ, ১৭ জন আনসার থাকবে। ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও র্যাব টহলে থাকবে। প্রতি উপজেলায় পুলিশের ২ টি মোবাইল টিম থাকবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার সাদেকুল ইসলাম, ‘নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ রয়েছে। কমিশনের সকল বিধি মান্য করে, অবাধ-নিরপেক্ষ করতে যা যা করার সব কিছুই করা হবে’।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট, লন্ডন প্রবাসী আহবাব হোসেন চৌধুরী ও চঞ্চলা দাশ। এ ছাড়া সাধারণ সদস্যপদে ৭৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ২০ জন প্রার্থী আছেন। জেলায় মোট ভোটার এক হাজার ২১৫ জন।
২০১১ সালের ২০ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর তাঁকে আবার জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। এ দিন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।
- জেলার অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ এক দশকে ৫০ হাজার ৭২২ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি
- জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল আজ


