সজীব দে
আজ পহেলা মে, মহান মে দিবস। বুড়ো শ্রমিক, যুবা শ্রমিক, মাঝারি শ্রমিক, শিশু শ্রমিক যেই শ্রমিকই হোক না কেন, সবার জন্যই বছরের একটি দিন ‘বিশেষ দিন’ হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে, যার নাম মে দিবস। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবেও এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে। শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের এক ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন আজ। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। কারণ এর পেছনে রয়েছে একটি রক্তাক্ত ইতিহাস। আজ থেকে ১৩০ বছর আগে ১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিকরা। এতে প্রায় ৩ লাখ মেহনতি মানুষ অংশ নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। দাবি আদায়ের জন্য সেদিন শ্রমিকদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল শিকাগোর রাজপথ। আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- দেয়া হয় গ্রেফতারকৃত ৬ শ্রমিককে। কারাগারে বন্দিদশায় এক শ্রমিক নেতা আত্মহননও করেন। শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত ঘটনার মধ্যদিয়ে দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয় হয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার করে নিয়েছিল শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছরের ১লা মে বিশ্বব্যাপী পালন হয়ে আসছে ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’। পহেলা মে সেই আন্দোলনের কথাই আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয়। জাতিসংঘে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসাবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আই.এল.ও) প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার সমূহ স্বীকৃতি লাভ করে এবং সকল দেশে শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের তা মেনে চলার আহবান জানায়। বাংলাদেশ আই.এল.ও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। আমরা চাই আই.এল.ও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার আমাদের দেশেও যেন যথাযথ ভাবে পালিত হয় সে ব্যাপারে সরকার শুধু একটি মাত্র বিশেষ দিন নয় সব সময়ই সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন ‘মে দিবসের মর্মবাণী, মালিক শ্রমিক ঐক্য আানি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। আলোচনা সভার পর অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন মহান মে দিবস উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূুচ হাতে নিয়েছেন।


