আকরাম উদ্দিন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের একটি হাটিতে গত ২০ দিন ধরে ক্ষণে ক্ষণে আগুন লাগার ঘটনায় ৬ পরিবারে আতঙ্খ বিরাজ করছে। সোমবার উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছে, তাদের ধারণা এই বাড়ির নীচে গ্যাস রয়েছে। তবে যাচাই না করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
২০ দিন আগে এই বাড়ির একটি খড়ের ভোলায় হঠাৎ করে ধোয়া ওঠতে দেখেন কানু দে নামের এক ব্যক্তি।
তিনি জানান, বিকাল ৫ টায় বসতঘরের বারান্দায় বসা ছিলেন, হঠাৎ দেখেন খড়ের মধ্যে ধুঁয়া উড়ছে। চিৎকার দিয়ে গিয়ে দেখেন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতরে আরেক স্থান দিয়ে আগুন ওঠতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পর বারান্দায় শুকানোর জন্য মেলে রাখা লুঙ্গিতে আগুন ধরে যায়। প্রথম দিন এক রাতে অন্তত: ১০ স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এভাবে প্রতিদিন ১০-১৫ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটে চলেছে এই গ্রাম্য হাটিতে।
গ্রামের সজিব দে, রূপক দে, চন্ডি চরণ দে, বাবুল দে, রানু দে জানান, আমাদের ছয় পরিবারের মধ্যে আতঙ্খ বিরাজ করছে। এই পর্যন্ত ঘরের দু’তলায় কাঠের পালং, নিচ তলায় থাকা দুটি আলনা, ঘরের ভেতরে থাকা আলমিরা, লেপ- তোষক, শাড়ি কাপড়, লুঙ্গি, বিছানার চাদর ইত্যাদিতে আগুন লেগেছে।
বীরেন্দ্র দে জানান, তাঁর ঘরে দুইবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বাইরে রাখা খরের দুটি খড়ের ভোলায়ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আগুণ লাগার ঘটনা ঘটে বেশি।
অঞ্জলী রানী দে (৬০) জানান, পুরো গ্রামের মধ্যে শুধু আমাদের বাড়ির ৬ পরিবারের বিভিন্ন ঘরে ও বাইরে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে চলেছে। আতঙ্খে বিশ্রাম নেই, ঘুম নেই।
একই কথা জানালেন বাড়ির সুচিত্রা দে, দিবা রাণী দে, নন্দিতা রাণী দে।
বাড়ির জিতেন্দ্র দে জানান, আমার ভাইয়ের ঘরেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে আগুন লেগে যায়, কেউ বলতে পারে না। এই আগুনের ঘটনা নিরসনের জন্য কবিরাজও আনা হয়েছিল। কোনো কাজ হয়নি।
বাড়ির সৌরভ দে জানান, সকলের ঘরের সামনে বড় বড় বালতি, ঘামলা, কলসিতে পানি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে সার্বক্ষণিক। কখন কার বাড়িতে আগুন লাগে এই আতঙ্খ সর্বত্র।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ইনচার্জ হিমাংশু রঞ্জন সিংহ বলেন, আমরা সালমারা গ্রামে আগুনের ঘটনা শুনে সোমবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা এই বাড়ি’র নীচে গ্যাস থাকতে পারে। আবার অন্য কোন কারণে গ্যাস উদগীরণ হয়ে আগুন লাগতে পারে। সঠিক কারণ এখনো বুঝা যাচ্ছে না।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ^াস বলেন, উপজেলার সালমারার ওই বাড়িতে কয়েকদিন আগে একবার কয়েক দফায় বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে। পরে দমকল কর্ম দের সারা রাত ওই বাড়িতে রাখা হয়। ওইদিন আগুন লাগার ঘটনা ঘটেনি। পরে আরেকদিন আগুন লাগতে থাকে। রোববার আবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে সোমবার দমকল কর্মীদের পাঠানো হয়। তারা একটি প্রতিবেদন দেবেন। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বাপেক্সকে ঘটনা জানানো হবে।


