আপনার শিশুকে ‘‘হ্যাঁ’’ বলুন

কালাম আজাদ
মানব সমাজ পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের সাথে বদলে যায় মূলবোধ, চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতি ইত্যাদি। কিন্তু পরিবর্তনের মাত্রা যদি সময়ের চেয়ে বেশী গতিতে হয় তখনই সমস্যা সৃষ্টি হয়। কারণ নতুন প্রজন্মের সাথে আগের  প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার মিল থাকে না। আমাদের সমাজে গত কয়েক বছরের মাঝে পরিবর্তন খুব বেশী হচ্ছে। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের চিন্তার ফারাক ও বেশী হচ্ছে। পরিবর্তনের  অনেক কারনের  মাঝে যে, কারণগুলো প্রধান হিসাবে সামনে আসছে- তাহলো কর্মসংস্থান ও আয়ের দ্রুত বৃদ্ধি, আকাশ সংস্কৃতির ছোঁয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহজ লভ্যতা ইত্যাদি। চিন্তা চেতনার পার্থক্য বেশী থাকার কারণে অনেক অভিভাবক শংকিত হয়ে পড়েন। অনেকেরই অভিযোগ সন্তান বিপথে যাচ্ছে। পড়ালেখায় মন নেই,কিশোর অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। একটু সচেতনভাবে চিন্তা করলেই দেখা যায় আপনার সামান্য সচেতনতা এসব অপরাধ থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে পারে।
যেমন সবচেয়ে বেশী যে অভিযোগ তা হল সন্তান ফেইসবুক, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আপনি চিন্তা করে দেখুন আপনার সন্তান জন্মের পর পরই আপনিই কিন্তু মোবাইলের সাথে সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সকলে মিলে শিশুর সাথে সেলফি উঠে ফেসবুকে ছবি আপলোড করছেন। তাই যে পৃথিবীতে চোখ মেলেই ডিজিটাল  প্রযুক্তির সাথে পরিচিতি হলো তাকে কিভাবে আবার এনালগ যুগে নিয়ে যাবেন। তাই তার সাথে তাল মিলানোর জন্য আপনাকেও ডিজিটাল হতে হবে। তাকে নিয়ন্ত্রন করতে হলে প্রযুক্তি ববহারের সুযোগ দিয়ে ভালো-খারাপের পার্থক্য নির্ণয় করার দায়িত্ব থাকেই দিতে হবে। এতে করে মানসিক পরিপক্ষতা দ্রুত হবে। আমরা প্রায়ই সন্তানের ভূল ধরে না বোধক আচরন করি। এটা পরিহার করে হা বলে তারপর তার ভূল ধরিয়ে দিতে হবে। যেমন ছোট শিশু যখন অ, আ লিখে তখন প্রায়ই উল্টা লিখে। এসব ক্ষেত্রে সমালোচনা না করে তার প্রশংসা করতে হবে। তারপর তাকে সঠিকটা লিখে দিয়ে  বলা দরকার এভাবে লিখলে খুবই সুন্দর হবে। এরপর খুশি হয়ে শিশুটি সঠিক জিনিস শিখবে এবং আত্ম বিশ্বাস বাড়বে। তাই শিশুদের প্রতি আমাদের ইতিবাচক আচরণ করা দরকার। হ্যাঁ বলা দরকার।