স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মার্চের ১৫ তারিখ পেরিয়ে গেলেও গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের ভিজিডির চাল পায় নি তাহিরপুরের শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হত দরিদ্র ২৬০ দুস্থ পরিবার।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে ২১৫০ জন হতদরিদ্র দুঃস্থদের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। ২০১৭ সালে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে ভিজিডির সরকারী চাল বিতরণ করা হলেও শুধু মাত্র দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত কোন প্রকার চাল বিতরণ করা সম্ভব হয় নি। তাছাড়া নতুন তালিকায় কাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সে বিষয়েও কোন কিছুই জানেন না বলে জানান দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম,সাইদুর রহমান ও গোলাম সরোয়ার ডালিম।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রেরীত ২৬০ জন ভিজিডি কার্ডধারী হতদরিদ্র মাতার নামের তালিকা অনুসারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার স্বাক্ষরে জানুয়ারী, ফ্রেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের চাল বিতরণের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সমন্বয় না থাকায় মার্চের ১৫ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সুবিধাভোগীরা চাল পাচ্ছেন না।
ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের ভিজিডি সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা এখনো প্রকাশ হয়নি বিধায় আমার ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীরদের নাম জানি না। একই বক্তব্য ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুর রহমান ছোটন, গোলাম সারোয়ার ডালিম ও কামাল হোসেনের।
ইউপি সদস্য
সিরাজুল ইসলাম বলেন পরিষদের কর্মকান্ডে অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে।’
শ্রীপুর দ. ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দীপক রঞ্জন দাস বলেন,‘উপকারভোগীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছি। এখনো ইউপি সদস্যদের হাতে প্রেরণ করিনি।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর দ. ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন,‘পরিষদে কোন সমন্বয়হীনতা নেই, নানা কারণে ভিজিডির চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। খুব শিঘ্রই চাল বিতরণ করা হবে।’
শ্রীপুর দ. ইউনিয়নের ভিজিডি চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন,‘ভিজিডির চাল বিতরণের জন্য প্রতি মাসে আমাকে অবহিত করার পর আমি সেখানে উপস্থিত থাকি। গত জানুয়ারি মাস থেকে আমাকে কোন কিছু জানানো হয়নি।’
তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন নাহার বলেন, ‘আমি জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ভিজিডি চাল বিতরণের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,‘ আমি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখব।’


