স্টাফ রিপোর্টার
দেয়াল কেটে ও ভেঙে শহরে চুরির উপদ্রব বেড়েই চলেছে। কোনভাবেই রোধ হচ্ছে না এসব দুঃসাহসিক চুরি। চোর চক্র বেছে বেছে যেখানে শুধু ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দোকান ও বা ইলেক্টনিক মালামাল রয়েছে সেসব স্থানেই চুরি করছে।
শহরের পৌর মার্কেট, স্টেশন রোড, প্রিয়াঙ্গন মার্কেট, শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগার (পাবলিক লাইব্রেরী)’র দেয়াল ভেঙে ও কেটে চুরির পর এবার শহরের প্রধান সড়ক ডিএস রোডের উকিলপাড়ার রেজা ম্যানশনের দ্বিতীয়তলার নিউ সূচনা কম্পিউটারে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন নিউ সূচনা কম্পিউটারে স্বত্ত্বাধিকারী মো. নুরুল আমিন।
চোরেরা রেজা ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার সূচনা কম্পিউটারে দেয়াল ভেঙ্গে ১৯টি হার্ডডিক্র, ২৪ টি মাদারবোর্ড, ২২ টি প্রসেসর, ১৭টি র্যাম, ৩ টি এলইডি মনিটর, ২টি টিভি কার্ডসহ নগদ ১০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দোকানের মালিক। রেজা ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় উঠার সিড়ির নিকটে প্রায় দুই ফুট ব্যাসার্ধ করে দেয়াল ভেঙ্গে ভবনের ভেতরে ঢুকে এসব মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। চুরির খবর পেয়ে সকালের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাসুক মিয়া।
নিউ সূচনা কম্পিউটারে পরিচালক মো. উবায়দুর রহমান জানান, এই চোর চক্র খুবই প্রশিক্ষিত,কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ সম্পর্কে বেশ ধারণা রয়েছে। কারণ দোকানে রাখা তার একটি পুরাতন ল্যাপটপ ব্যাগ থেকে বের করে রেখে সেই ব্যাগে করে র্যাম, প্রসেসর, হার্ডডিক্স, মাদারবোর্ডসহ অনেক দামী যন্ত্রাংশ নিয়ে গেছে। চায়নার তৈরি মনিটরগুলো না নিয়ে ডেল এলইডি মনিটর নিয়েছে। র্যাম, প্রসেসর, হার্ডডিক্স প্যাকেট থেকে বের করে প্যাকেট দোকানেই ফেলে রেখে গেছে। দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। দোকানের সাটার না খোলে দেয়াল ভেঙে যেদিকে ভেতরে প্রবেশ করেছিল সেদিকেই বের হয়েছে।
রেজা ম্যানশনের মালিক আমির হোসেন রেজা বলেন,‘উকিল পাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র। আমার এই ভবনটি প্রধান সড়কের পাশে ও মূল পয়েন্টে অবস্থিত। এখানে এভাবে দেয়াল ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাই করি নি।’
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাসুক মিয়া বলেন,‘ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা করছে।’তিনি আরো বলেন,‘এতবড় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেখানে ৩০-৪০ টি দোকান কোঠা রয়েছে সেখানে সবাই মিলে একজন পাহাড়া রাখতে পারতেন। এতে দোকানের নিরাপত্তা জোরদার থাকত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই কোন নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াই এতগুলো দোকান চলছে।’


