স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার সুনামগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১৮ জন। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে ১১১ টি নমুনা পরীক্ষায় এই ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। সদর উপজেলায় ৮ জন, ছাতক উপজেলায় ২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১ জন, দিরাই উপজেলায় ২ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ২ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
সবচেয়ে বেশী ৩২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন হয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। এছাড়াও ছাতক উপজেলায় ২৮০ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৭৫ জন, দিরাই উপজেলায় ৫৫ জন, শাল্লা উপজেলায় ৩৭ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৩৭ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৩৯ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬৮ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ২৪ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০২ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ৯ হাজার ৫৩২ জনের নমুনার পরীক্ষায় এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩৬ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। করোনায় সবচেয়ে বেশী ৬ জন মারা গেছেন ছাতক উপজেলায়। তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মারা গেছেন ১ জন করে। জুন মাসে মারা গেছেন ৬ জন এবং ৮ জুলাই পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ জন।
১ জুন ছাতক উপজেলার জাউয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কৈতক গ্রামের বাসিন্দা, ঔষধ ব্যবসায়ী আব্দুল হক (৫০), ৫ জুন পৌর শহরের বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাজী পিয়ারা মিয়া (৬৮), ৬ জুন ইসলামপুর ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী হাজী হিরা মিয়া (৬৫)। ৭ জুন জামালগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ী পংকজ পাল চৌধুরী (৭২), ২২ জুন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার লালন মিয়া (৩৮) এবং ২৫ জুন তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান (৬৫) মৃত্যুবরণ করেন। ১ জুলাই দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উস্তেঙ্গেগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং ঘিলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরশ আলী (৫৪), ৩ জুলাই ছাতক পৌরসভার দক্ষিণ বাগবাড়ী এলাকার রেজিয়া বেগম, ৮ জুলাই উপজেলার ফকির টিলা এলাকার বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী শাহ্ মোহাম্মদ বশির মিয়া (৫৭) ও জাউয়া বাজার ইউনিয়নের জাউয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গণি (৯১) মারা যান।
২৮ জুন করোনা উপসর্গে সুুনামগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তার পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চন্দ (৫২) মারা যান। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের হায়দরপুর গ্রামের বাসিন্দা দরাজ আলী মাস্টার।
এদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নতুন করে আরোগ্য লাভ করেছেন আরও ৩২ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৫ জন, দিরাই উপজেলায় ৪ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৫ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫ জন, এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩ জন। এনিয়ে করোনা সংক্রমণ থেকে মোট আরোগ্য লাভ করেছেন ৭৭৫ জন।
সবচেয়ে বেশী ১৮৩ জন সুস্থ হয়েছেন সুনামগঞ্জ উপজেলায়। এছাড়াও ছাতক উপজেলায় ১৭৩ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৬১ জন, দিরাই উপজেলায় ২৮ জন, শাল্লা উপজেলায় ৩৬ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৩৩ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৩১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৫৯ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৭৬ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৭৭ জন সুস্থ হয়েছেন। করোনা আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৬৮ দশমিক ২২ শতাংশ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নতুন করে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ১০ জন, আইসোলেসনে গেছেন ১৮ জন, কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেসন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ জন। এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ৬ হাজার ১৫৬ জনকে হোম কেয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়। কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেসন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় ৬ হাজার ৮২২ জনকে। এ ছাড়া করোনা সন্দেহে এ পর্যন্ত ১১১৮ জনকে আইসোলেশনে আনা হয়েছে। করোনা শনাক্তে সবচেয়ে বেশী ২১৩৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে। এরমধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯৯১ জনের নমুনা।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য জেলার ১২টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৩১ টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রয়েছে ১০০টি বেড। এছাড়াও ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। রয়েছেন ৮৬ জন ডাক্তার ও ২৪৭ জন নার্স। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ১৭ হাজার ১ শত ৩২ টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে। মজুত রয়েছে ১ হাজার ২৮ টি। মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৭শত ৫৩ টি এবং মজুত রয়েছে ১ হাজার ৯শত ৫৭টি।
- দোয়ারাবাজারে বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তা দিল প্রথম আলো
- বিশ্বম্ভরপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বৃক্ষ রোপন


