আ.লীগের গলার কাঁটা বিদ্রোহীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারার ১৯ ইউনিয়নে বরাবরের মতোই আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হিসেবে মাঠে আছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১১ নভেম্বর এই ১৯ ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত ১১ প্রার্তীকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী মাঠ দাফিয়ে বেড়াচ্ছেন ৩১ প্রার্থী।
দোয়ারাবাজারের নয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে আছেন দলীয় নেতা ইব্রাহিম খলিল, জসিম আহমদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবুল হোসেন। নরসিংহপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত দলের নেতা মো. ফজলুর রহমান, মো. স্বপন মিয়া ও মো. নুরুল আমিন জোরে- শোরে প্রচারণায় আছেন।
মান্নারগাঁও ইউনিয়নে দীলিপ রঞ্জন চক্রবর্তী, মো. জামাল উদ্দিন আহমদ, পান্ডারগাঁও ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আসকর আলী, দোহালিয়া ইউনিয়নে শামিমুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, নুর মিয়া, লক্ষীপুর ইউনিয়নে আমিরুল হক ও জহিরুল ইসলাম দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভোট যুদ্ধে আছেন।
ছাতকের ১০ ইউনিয়নেও একই অবস্থা। ছাতক সদর ইউনিয়নে দলীয় নেতা সাইফুল ইসলাম দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করেই মাঠে নেমেছেন। খুরমা উত্তর ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন আছেন জোরে- শোরে প্রচারণায়, কালারুকা ইউনিয়নে আশরাফুল আলম মাঠে আছেন, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে আব্দুল খালিক রয়েছেন প্রচারণায়, দোলারবাজার ইউনিয়নে আমির উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন দলীয় প্রার্থীকে ঠেকাতে মাঠে আছেন, খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নে আব্দুল খালিক, জয়নাল আবেদীন ,আবু বক্কর সিদ্দিক দলের প্রার্থীর গলার কাঁটা, গোবিন্দগঞ্জ-ছৈদেরগাও ইউনিয়নে আখলাকুর রহমান ও নিজাম উদ্দিন আছেন নির্বাচনী লড়াইয়ে। জাউয়া বাজার ইউনিয়নে মোরাদ হোসেন এবং আব্দুল হক রয়েছেন দলের প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে মাঠে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক বললেন, দলের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে উদ্যোগেরও অভাব রয়েছে। আমি দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে তিনবারের চেয়ারম্যান ছিলাম, আমার ছেলে এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিল। নির্বাচন করার জন্য সে মনোনয়নও জমা দিয়েছিল। আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার ছেলের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি এবং দলের প্রার্থীর পক্ষে পরিবারের সকলেই কাজ করছি। ইনশাল্লাহ্ আমার ইউনিয়নে দলের প্রার্থীরই জয় হবে। দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে যারা নির্বাচনে নেমেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি মনে করছি আমি।
দলীয় মনোনয় বঞ্চিত কোন কোন বিদ্রোহী প্রার্থী অবশ্য বলছেন, স্থানীয় দলীয় কর্মী এবং এলাকার ভোটারদের চাপে প্রার্থী হয়েছেন তারা।
দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল হকও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আমিরুল হক বললেন, আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী, আমার ইউনিয়নে দলে আমার চেয়ে ত্যাগী কর্মী কমই আছেন। গেল নির্বাচনে সংগঠনের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে ভুল তথ্য দিয়ে বিএনপির এক কর্মীকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় কর্মী ও ভোটারদের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। বিপুল ভোটে বিজয়ীও হয়েছি। সেই নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ হওয়াতেই এবার মনোনয়ন পাই নি বলে মনে করছি আমি। এবারও দলের স্থানীয় কর্মী, ভোটার এবং দলের শুভানুধ্যায়ীদের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি। দলের প্রতি আমি অনুগত। লক্ষীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসাবেই থাকবে। কেবল আমিরুল হক নয়, এধরনের বক্তব্য আছে বিদ্রোহী একাধিক প্রার্থীর।
জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, প্রার্থী মনোনয়নে ত্রুটি আছে, দায়িত্বশীলরা মনোনয়ন বোর্ডে সঠিক তথ্যও উপস্থাপন করেন নি। জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দিলে মাঠ পর্যায়ে এভাবে অসন্তোষ তৈরি হত না। কোন কোন ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে একজনকে, আবার দায়িত্বশীলরাই আরেকজনকে প্রার্থী করে মাঠে নামিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দায়িত্বশীল কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মনিটরিং করার জন্য জেলা কমিটির সাংগঠনিক টিম করবে, প্রত্যেক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনায় তারা কাজ করবেন, তাদের পর্যবেক্ষণে কোন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির বিদ্রোহী প্রার্থীকে সহযোগিতা করার বিষয় ধরা পড়লে বা অভিযোগ হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা প্রার্থী তালিকায় ভুল ছিল। কোন কোন ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীকেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দলীয় প্রার্থী মনোনীত হবার পর জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায়ও কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। এসব ভুলের কারণে তৃণমূলে অসেন্তাষ আছে।