বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি চাইবে,‘আওয়ামী লীগের বিভক্তিকে আরো জোরদার করাই থাকবে আমাদের লক্ষ্য। অভ্যন্তরীণ কোন্দল জিইয়ে রাখা। এই বিভক্তি যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ’। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন নেতা এ প্রতিবেদকের কাছে এই মন্তব্য করে বলেন,‘আমাকে উদ্বৃত করে এটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। তবে আমাদের সকল নেতারাই আমাদের দল সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের এই ম্যাসেজ দেওয়া প্রয়োজন।’ সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের ভোট জয়ের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে আপনারা কী ভূমিকা নেবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র এই নেতা (দল নির্বাচনে গেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী) এমন মন্তব্য করেন। অবশ্য বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, ‘বিএনপি’র কোন প্রার্থী নেই, আমরা কারো পক্ষেও নেই’।
জেলার ৮৭ ইউনিয়ন, ১১ উপজেলা ও ৪ পৌরসভায় ১২১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩২৮ জন জনপ্রতিনিধি বিএনপি সমর্থিত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। অর্থাৎ সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে বিএনপি’র ভোটার ২৭ শতাংশ।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। এর মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট।
অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বি যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আহবাব হোসেন চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী চঞ্চলা দাস।
আহবাব হোসেন চৌধুরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী চাচাতো ভাই হলেও তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। চঞ্চলা দাস সিলেট জেলা কর্মজীবী লীগের সাবেক সহসভাপতি। অর্থাৎ প্রার্থী ৪ জনের কেউই বিএনপি’র নয়।
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতা। এই অবস্থায় বিএনপি ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন? এই নিয়েই জেলার রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। প্রকাশ্যে প্রচারণায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কেউ কেউ রয়েছেন নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে। অবশ্য এখনো কারো পক্ষে প্রচারণায় নামেননি বিএনপি’র এমন জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,‘সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক বেশি হলেও দলের দ্বিধাবিভক্তির কারণে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে’। প্রার্থীরাও ছুটছেন বিএনপি প্রতিনিধিদের কাছে, মুঠোফোনে যোগাযোগ রাখছেন বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে বিএনপি’র প্রার্থীও নেই। এটি এক তরফা নির্বাচন। সময় আরো ঘনিয়ে আসলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরাও সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো’।
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি। জনগণের স্বাভাবিক ইচ্ছা এখানে পূরণ হবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। এই ব্যাপারে দলের কোন আগ্রহ নেই’।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জেলা পরিষদে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। আমরা কারো পক্ষেও নেই। সদস্য পদে কেউ প্রার্থী হয়ে থাকলে নিজ দায়িত্বে করবেন। আমাদের এ নিয়ে কোন আগ্রহ নেই’।


