ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ সদস্যের অনাস্থা

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে পরিষদের ১০ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এই অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়।
অনাস্থা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আবুল হোসেন স্থানীয় সরকার বিধি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাকে সরিয়ে নিজের লোক বসিয়েছেন। যে কোন স্থান থেকে নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করার এখতিয়ার থাকলেও চেয়ারম্যানের মনোনীত ব্যক্তির কাছে নিবন্ধন করা না হলে তা তিনি অগ্রাহ্য করেন। জন্ম ও মৃত্যু বিধিমালা-২০১৮ বিধি মোতাবেক ফি নেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মতো ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করা হয়। চেয়ারম্যানের নিযুক্ত লোকদের মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রত্যেক খানা হতে নাম্বার প্লেটের নামে ১৫০ টাকা করে অন্তত দশ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে নয় লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। এরকম বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। সর্বশেষ জিআর এর পাঁচ মে. টন চাল তিনি বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরিষদের নিয়মিত কোন মিটিং করেন না।
অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা হলেন, রফিকুল ইসলাম, বকুল আক্তার, আবদুল কাদির, আল আমিন, আবু হানিফ, মোশাররফ হোসেন, আবদুল কাদির ২, নুরুল ইসলাম, ছফিউল্লাহ, জয়নব বিবি প্রমুখ।
ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান এম আবুল হোসেন বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি আমার জানা নেই। শুনেছি এরকম আবেদন করেছেন কয়েকজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আবুল হোসেন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ১০ ইউপি সদস্যের দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।