জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলা সড়কে চলাচলকারী জানবাহনের পিপ পিপ শব্দে সবসময় সরব থাকে পুরো এলাকা। যেসময়টুকু নিরব থাকে তখন কানে ভেসে আসে হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙার টুসটাস শব্দ। সেখানে ইট ভেঙে খোয়া করে চলেছেন এক দম্পতি। মাথার চুল পেকে একেবারে ধবধবে সাদা হলেও বয়স নিয়ে পরোয়া নেই তাদের। দৃঢ় মনোবল নিয়ে একের পর এক ইট ভেঙে যাচ্ছেন তারা।
এই দম্পতি হলেন জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের তেলিয়া গ্রামের শাহআলম (৬৫) ও সরুফা বেগম (৬০)। জামালগঞ্জ সড়কের পাশে ইট ভাঙার কাজে ব্যস্ত তারা। তাদের কাছে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় জানাতেই হাসিমুখে কথা বলতে শুরু করেন তারা। শুনালেন তাদের জীবন সংগ্রামের গল্প। হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙার ফাঁকে ফাঁকে শাহ আলম ও সরুফা জানালেন, ঘর—বাড়ি নেই তাদের। থাকেন ভাড়াটিয়া বাড়িতে। ২৪ বছর যাবত ইট ভাঙার কাজ করছেন এই দম্পতি।
সরুফা বেগম বললেন, বয়সের কারণে দৃষ্টি শক্তি কমে গেছে। ইটে হাতুড়ির ঘা বসানোর সময় কখনও কখনও নিজের হাতেও লাগে। এতে অসহ্য যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছেন অনেক দিন। একথা বলতে বলতে দুই চোখে জল এসে যায় সরুফার। হঠাৎ কথার মোড় ঘুড়িয়ে বলতে লাগলেন— অভাবের সংসারে তিন মেয়ে নিয়ে ইট ভাঙার কাজ করেন তিনি। তাই প্রথম দিকে হাতুড়ি হাতে লাগতো কিছুদিন কাজ করার পর এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
বৃদ্ধ শাহ আলম জানান, তাদের তিন মেয়ে কোন ছেলে সন্তান নেই। ধার দেনা করে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন একটি একটি ইট হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ছোট ছোট খোয়া তৈরী করেন। এক ফুট ইট ভাঙলে বিশ টাকা করে দেয় মালিক প্রতিদিন বিশ থেকে পঁচিশ ফুট ইট ভাঙতে পারেন প্রতিজনে। এতে প্রতিদিন দুইশত পঞ্চাশ টাকা থেকে তিনশত টাকা রুজি করেন জনপ্রতি।
কথার মধ্যে ইট ভাঙার কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। কপাল থেকে ঘাম পড়ছিল ইটের উপর। একটু পর পর দম নিচ্ছেন, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে অনবরত হাতুড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন দুইজন। হাতুড়ির আঘাতে আঘাতে ইটগুলো টুকরো টুকরো হয়ে খোয়ায় পরিণত হচ্ছে।
এদিকে তাদের মতো লাল মিয়া, নবী হোসেন, রেহেনা বেগম, ছালমা বেগম সহ অর্ধশত পরিবার এই পেশায় নিয়োজিত আছেন।
কথা শেষে শাহআলম দম্পতি হাসিমুখে বিদায় দিলেন, আর বললেন যতদিন শরীর কুলাবে ততদিন ইট ভেঙে যাবেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল—আজাদ জানান, উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবার ইটের খোয়া তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যকোন কাজ করার সুযোগ না থাকায় তারা এই পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এরা।


