ঈদ যাত্রায় দূরপাল্লার বাস গরিবের ভাড়া বেড়ে গেছে

বিশেষ প্রতিনিধি
‘আগে যেতাম সাড়ে ৩’শ টাকায়, ঈদ উপলক্ষে গাড়ীওয়ালা বলেছে সাড়ে ৫’শ টাকা ভাড়া দিতে হবে, আমাদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ’শ টাকা নিলেও অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে ৬’শ টাকাও নিচ্ছে’। ময়মনসিংহের রাজমিস্ত্রি ফরিদ মিয়া ২ মাস পর ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাচ্ছেন।
এ প্রতিবেদকের কাছে ফরিদ মিয়া বলেন,‘আমাদের তো ভাই হিসাবের টাকা, প্রতিদিন ঠিকাদারের কাছ থেকে খোরাকির ২০০ টাকা করে নিয়ে চলি, পরে মাস শেষে ৫-৬ হাজার টাকা পাই। এই ৫-৬ হাজার টাকা থেকে ঈদের খরচসহ সাড়া মাসের খরচ চালাতে হবে। ২০০ টাকা ভাড়া বেশি গুনায় মন খারাপ হয়েছে, কিন্তু কিছুই করার নেই, গাড়িওয়ালারা বলছে, সারা বছরেই তো তোমাদের কাছ থেকে কম রাখি, এখন বেশি দিতে হবে’।
শুধু ময়মনসিংহের যাত্রী ফরিদ মিয়া নয়। কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকাসহ বেশিরভাগ দূরপাল্লার গাড়িগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। কেউ প্রতিবাদও করার সাহস পাচ্ছে না, কথা বললেই বলা হচ্ছে ‘যেখানে কম পাও, সে গাড়ি দিয়ে যাও’।
অবশ্য সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্টেশনে থাকা পরিবহন কাউন্টারের শ্যামলী পরিবহন, এনা ট্রান্সফোর্ট, মামুন পরিবহন, নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস, সৌদিয়া, বিএম পরিবহন ও আল শামীম পরিবহনের ম্যানেজাররা বললেন,‘সুনামগঞ্জ থেকে যাওয়ার যাত্রী কম, আসছে বেশি, সুতরাং বেশি ভাড়া আদায়ের প্রশ্নই ওঠে না’। IMG_4415
অগ্রিম টিকেটও খুব বেশি নেই  বলে জানালেন পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজাররা। পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজাররা বললেন, বিআরটিএ’র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া আদায় করছি আমরা।
কেবল চট্টগ্রামগামী সৌদিয়াতে ৮০০ টিকেট অগ্রিম বৃকিং দেয়া আছে এবং বিশাল পরিবহনের ২৫ টিকেট অগ্রিম বুকিং রয়েছে বলে জানান ঐ দুই পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজাররা।
ট্রাফিস সার্জেন্ট সালাউদ্দিন কাজল বলেন,‘এধরনের অভিযোগ পেয়ে বাস কাউন্টারগুলোতে বৃহস্পতিবার আমরাও গিয়েছি, দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-ঢাকার বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া ৫৫৫ টাকা। শ্যামলী, এনা ও মামুন পরিবহন আগে থেকেই ৫৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, কিন্তু লোকাল কিছু দূর পাল্লার গাড়ি আছে, যারা আগে যাত্রী বহন করতো ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, এরা ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ৫৫০ টাকা করে নিয়েছে। তাতে কম ভাড়ায় যে সব যাত্রী আগে চলাচল করতেন, তারা বেকায়দায় পড়েছেন। আমরা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসব পরিবহনে নজরদারী বাড়িয়েছি, যাত্রীদের কাছ থেকে তারা যাতে সহনশীল পর্যায়ে ভাড়া আদায় করেন সেজন্য অনুরোধ করছি’।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ঈদের আগে-পরে কোন পরিবহন যাতে বেশি ভাড়া আদায় না করতে পারে, সেটি খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।