উন্নয়নের প্রধান লক্ষণ আইন মান্য করা

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সুনামগঞ্জের প্রথিতযশা আইনজীবী ও লেখক স্বপন কুমার দেব’র ধারাবাহিক ভ্রমণ কাহিনি ‘মালয় থেকে মালয়েশিয়া’ এর ১৪তম কিস্তি প্রকাশ হয়। ওই লেখার এক জায়গায় তিনি পাঠকদের জানাচ্ছেন, লেখক মালয়েশিয়া থেকে কিছু স্ট্রভেরি ফল নিয়ে এসেছিলেন প্রভাতী হাঁটার দল সোনালী সকালের বন্ধুদের জন্য। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, এসব ফলে পচনরোধক ফরমালিন মিশানো হয়নি। ২ দিন পর দেশে এসে তিনি দেখতে পেলেন ওই স্ট্রভেরি ফল ততক্ষণে পঁচে গলে পড়েছে। তিনি আর বন্ধুদের মালয়েশিয়ান স্ট্রভেরির স্বাদ চাখতে দিতে পারেন নি। এই আক্ষেপ থেকে লেখক মন্তব্য করছেন, ‘হায়রে ফরমালিন। দুই দিকেই কাটে।’ ফরামালিন না মেশানোয় লেখকের এই আক্ষেপ থেকে মালয়েশিয়ার বাজারে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কঠোর নজরদারির পরিচয় মিলে। বলা বাহুল্য উন্নত বা উন্নতির কাছাকাছি পৌঁছেছে এমন সকল দেশেই খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ সহ সকল ক্ষেত্রে আইন মান্য করার সহজাত প্রবণতা লক্ষণীয়। আমাদের দেশটিকে সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন অভিযাত্রায় শামিল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের এই সনদের সাথে আইন না মানার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ব্যক্তির যে উন্নাসিকতা বা বেপরোয়াত্ব সেটি কিছুতেই পরিবর্তিত হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে ফরমালিনযুক্ত ফলফলাদি ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জব্দ করে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এবং বিনষ্টকৃত এই ধরনের ফল-ফলাদির পরিমাণ খোদ ঢাকা শহরেই দৈনিক কয়েক হাজার মণ বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। অন্যদিকে রমজানের শুরু থেকেই র‌্যাবসহ পুলিশ বাহিনি দেশে শক্তভাবে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। অথচ নাগরিক সমাজের মধ্যে যদি আইন মানার সহজাত অভ্যাস গড়ে উঠত তাহলে এসব অভিযানের কোন দরকারই পড়ত না।
বিভিন্ন দেশে উৎসবাদি আসলে পণ্যমূল্য হ্রাস করা হয়। তাঁদের নীতি হলো এক্ষেত্রে, বেশি বিক্রি বেশি লাভ। ক্রিস্ট মাস ডে উপলক্ষে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন বিপণি বিতানে মূল্যহ্রাসের রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পবিত্র রমজানে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে দেয়া হয় বলে আমরা জানি। আর আমাদের দেশের মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা রমজানের সংযমের আদর্শ ভুলে এ মাসটিকেই মূল্য বাড়িয়ে মুনাফার অংক স্ফীত করার মোক্ষম উপলক্ষ করে তোলেন। ধর্ম যে কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক আচরণ বিশেষের বাইরে ছাপ ফেলতে পারে নি অহেতুক মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা এর প্রমাণ। আর যারা ফল ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে দেন তাদের পরিচয় কোনভাবে বর্ণনা করা যায় তা ভেবে দেখতে হবে। তবে চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনি। এইসব বিপথগামীদের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে রয়েছে দেশে পর্যাপ্ত আইন। বাজারে কোন পণ্যের কেমন মান থাকতে হবে সেটি নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু নির্ধারিত মানটি বজায় থাকছে কিনা সেটি তদারকি করা হচ্ছে না। এই ফাঁকেই বাজার সয়লাব হচ্ছে বিষাক্ত দ্রব্যে। এর হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সকলকে আইন মানতে বাধ্য করা। এজন্য কঠোর থেকে কঠোর হলেও সাধারণ নাগরিক সমাজের কিছু বলার থাকবে না। মানবিকতার নামে মানুষ হত্যাকারীদের নিশ্চয়ই ছাড় দেয়া কোন মানবিক আচরণ হতে পারে না।