উৎসবে মেতেছে হাজারো প্রাণ

আকরাম উদ্দিন
‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুনামগঞ্জের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনী উৎসবের প্রথম দিন শুক্রবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ উৎসব মূখর হয়ে ওঠে পুরনো ও নতুন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলন মেলায়।
শুক্রবার সকাল নয় টা থেকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং হীরক জয়ন্তীর পতাকা উত্তোলন, পায়রা মুক্তকরণ, ফেষ্টুন উড়ানো, শোক প্রস্তাব জ্ঞাপন, শপথ পাঠ, পিটি ও রণসঙ্গীত শেষে সকাল ১০ টায় শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়।
র‌্যালি শেষে কেকে কেটে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ২ দিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এরপর বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তীর প্রকাশনা ‘চন্দ্রালোকের বালিকারা’র মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। পরে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত নারী    
আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি সতীশ চন্দ্রের চন্দ্রালোকের বালিকাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘সতীশিয়ানদের এই উৎসব যখন হচ্ছে, বাংলাদেশ তখন জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে মানবজাতির মূল অভিযাত্রায় যোগদান করার সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে, সরকারের সকল উন্নয়ন কৌশলের প্রধান কেন্দ্রে থাকবে শিক্ষা।’dsc08693
তিনি বলেন, ‘১ হাজার বছরের পরাধীনতার গ্লানী থেকে ১৯৭১ সালে বাঙালি স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পরও প্রায় ২০ বছর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা এই ক্ষতি পুষিয়ে এগিয়ে যেতে চাই’। তিনি বিদ্যালয়ের দাতা সতীশ চন্দ্রের মা রাজেশ্বরী দেবীকে স্মরণ করে বলেন,‘এরকম একটি প্রতিষ্ঠান করে তিনি অমর হয়ে রয়েছেন’।
মন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জের শিক্ষা-দীক্ষা উন্নয়নে আমরা সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ৭ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আব্দুল মজিদ কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ৫ কোটি টাকা, জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর আদর্শ কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ৫ কোটি টাকা, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের পৃথক ক্যাম্পাস (পুরাতন জেল) উন্নয়নের জন্য ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।’ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য আরেকটি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক ভবন নির্মাণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী তানিম চৌধুরী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী রুমী, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাছির উদ্দিন, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সঞ্চিতা চৌধুরী প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মিফতাহ্ উদ্দিন চৌধুরী রুমী বলেন,‘বিদ্যালয়ের দাতা সতীশ চন্দ্রের মা রাজেশ্বরী দেবীকে এই উৎসবে যথাযথভাবে স্মরণ করায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি করলে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অন্যারাও উৎসাহিত হবেন।’ তিনি সুনামগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঘরগুলো রক্ষা করে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন,‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের জন্ম দিয়েছিলেন বলেই আজ বাঙালিরা দেশের নেতৃত্ব দিতে পারছে। তিনি বলেন, জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা দেখে, বিশ্বের অন্যান্য দেশ এখন বাংলাদেশ অনুস্মরণ করার কথাও বলছে।’ উপস্থিত সতীশিয়ানদের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘ দেশকে যারা পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তারা আমাদের চর্বির মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।’ তিনি সৈয়দ শাহনূর শাহ্, মরমি কবি হাসন রাজার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁরা অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান করেছেন। আমাদের ঐ পথেই এগিয়ে যেতে হবে’।
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এমপি তাঁর কৈশোরের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা ‘ঝুনু দি-ডালিমদি সহ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের তাঁর শিক্ষকগণের শিক্ষা-দীক্ষার নানা বিষয় তুলে ধরেন’।
আলোচনা সভা শেষে বিকাল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে।