স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করোনা মহামারির আগে শুরু হয়েছে। তবে কিছু প্রকল্প রয়েছে যার কাজ এখনও শুরু হয় নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে নাগরিক ভোগান্তি কমে জনমনে স্বস্তি আসবে। তবে চলমান কাজের ধীরগতি, কিছু প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পৌরবাসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, গেল বছরের শেষের দিকে পৌরসভার সড়ক সংস্কার, সড়ক পাকাকরণ, সড়ক প্রসস্তকরণ, বক্স কালভার্ট, ঘাট উন্নয়ন, ড্রেনের উন্নয়ন, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিভিন্ন পয়েন্টের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিকরণসহ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার টেন্ডার হয়। করোনা মহামারির আগে সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মার্চ মাস থেকে টানা লকডাউনে এসব উন্নয়নের কাজের গতি কমে যায়। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবারো সচল হয় প্রকল্পের কাজ।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে মরাটিলা, পশ্চিম হাজিপাড়ার ড্রেনের কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ষোলঘর চার সড়কের মোড়ের ড্রেন, সুলতানপুরের সড়কের কাজ শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছেন, টানা লকডাউনের কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সম্ভব হচ্ছে না কাজগুলো শুরু করা। দিন ভালো হলে কাজ শুরু হবে।
নতুন পাড়ার বাসিন্দা গৌতম দাস বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেও পানি লেগে যায়। বৃষ্টির পানি যদি সঙ্গে সঙ্গে সরে যাবার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। তাই ড্রেনের কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।
ষোলোঘরের বাসিন্দা নিমাই সরকার বলেন, অন্যান্য এলাকায় পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়কের কাজ শেষও হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে সকল প্রকল্পের কাজ শুরুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর শেষ করার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পশ্চিম নতুনপাড়া ও ষোলোঘর চার রাস্তার মোড়ের ড্রেনের প্রকল্পের কন্ট্রাক্টর আতিকুর রহমান। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষাকালে ড্রেনের কাজ করতে গেলে পানি জমে যায় গর্তে। তাই শুষ্ক মৌসুমে ড্রেনের কাজ করবো আমরা।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, চার পাঁচ দিন আগেও বৃষ্টি হয়েছে। এখন আবার ভালো। কাজ শুরু করার মতো পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে। আমরা ১০ দিনের ভেতর সকল উন্নয়ন কাজ শুরু করবো।
কন্ট্রাক্টরের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এখন শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ১০ দিনের ভেতর প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে।


