এখনো রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী নুরুল আমিনের নামফলক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের স্টেডিয়াম গেটের পশ্চিম পাশে এবং জেলা পরিষদ রেস্ট হাউসের উত্তর পাশে থাকা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয় অবস্থিত। কার্যালয় ভবনের সামনে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী নুরুল আমিনের নামে ‘নুরুল আমিন আনসার হল’ নামফলক রয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা বিরোধী নুরুল আমিন ১৯৫২ সালের ১৭ জানুয়ারি এটির উদ্বোধন করেন। এই নামফলক অপসারণের দাবি ওঠিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
রোববার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয় থেকে স্বাধীনতা বিরোধী নুরুল আমিনের নামে থাকা ‘নুরুল আমিন আনসার হল’ নামফলক অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর। জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নুরুল আমিন ভাষা আন্দোলনের বিরোধীতাকারী এবং তার নির্দেশেই ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের উপর গুলি বর্ষণ করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসনের কয়েকদিন পূর্বে নুরুল আমিন পশ্চিম পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সে পাকিস্তানের উপ রাষ্ট্রপতির পদ লাভ করে। এই রকম একজন স্বাধীনতা বিরোধীর নামে একটি সরকারী অফিসের নামফলক থাকা দুর্ভাগ্যজনক। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা বোনের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মানজনক ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য লজ্জাজনক।
স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয় থেকে স্বাধীনতা বিরোধী নুরুল আমিনের নামে ‘নুরুল আমিন আনসার হল’ নামফলক অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, স্মারকলিপিটি আমার হাতে এসেছে। এটি আনসার ভিডিপি’র জেলা কর্মকর্তার কাছে ব্যবস্থা নেবার জন্য পাঠানো হবে।