এনজিও’র কিস্তি আদায়ে নেমেছে প্রতারকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
এনজিওদের ঋণের কিস্তি আদায়ে কোথাও কোথাও নেমেছে প্রতারকরা। এরা টার্গেট করে ঋণ গ্রহিতাদের ফোন দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় ঋণের টাকা হাতিয়ে নেবার ঘটনা ঘটছে। সোমবার সুনামগঞ্জ শহরতলির কোরবাননগর ইউনিয়নের হাছনবাহার এলাকায় ঋণের কিস্তি দেবার জন্য ভয়ভীতি দেখালে এই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত এনজিও গুলোর পক্ষ থেকে এমন সতর্কতার বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে।
সোমবার বিকাল ৪ টায় সুনামগঞ্জ শহরতলির হাছনবাহার এলাকার আব্দুল খালিক নামের একজন শ্রমজীবী মানুষের মুঠোফোনে উন্নয়ন সংগঠন আশা’র লোন অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোন দেয় এক প্রতারক। আব্দুল খালিক এর মুঠোফোন ০১৭৯৫৪৪৮২৩২ নম্বরে ওই প্রতারকের ০১৮৪৮৬১৮৬৮৭ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলে ‘তোমার তিন মাসের কিস্তি বকেয়া, ৩০ মিনিটের মধ্যে তুমি বকেয়া নিয়ে অফিসে আসতে হবে। ৩১ মিনিট হলে তোমার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে।’ আব্দুল খালিক প্রতারণার বিষয়টি বুঝেন নি। তিনি অনুনোয়-বিনয় করে বলছিলেন ‘আমাকে দুদিন সময় দেন। আমার তিন মাস নয়, দুই মাসের বকেয়া।’ এরপরও ওই প্রতারক চাপাচাপি করতে থাকে। পরে আব্দুল খালিক একজন সাংবাদিকের সাহায্য চেয়ে বলেন, ‘আমি একটি বিপদে পড়েছি, আমাকে সাহায্য করুণ। আমাকে আশা অফিস থেকে ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে, ৩০ মিনিটের মধ্যে কিস্তি না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নেবে। আমাকে দুই দিনের সময় নিয়ে দেন।’ পরে এই গণমাধ্যম কর্মী ০১৮৪৬১৮৬৮৭ নম্বরে ফোন দিলে তাকেও ধমক দেয় এই প্রতারক। প্রতারক বললো, টাকা নিয়ে আসতেই হবে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক আশা’র জেলা ম্যানেজার পূর্ণেন্দু গোস্বামীকে অবহিত করা হয়। আশা’র জেলা ম্যানেজার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সকলকে বিষয়টি অবহিত করেন। দায়িত্বশীলরা জানান, এই মোবাইল নম্বর তাদের কারো নয়। তারা এভাবে কাউকে ফোনও দেন নি। পরে সকলেই বুঝতে পাারেন এই বিষয়টি প্রতারণা।
আশার জেলা ম্যানেজার পূর্ণেন্দু গোস্বামী বলেন, আব্দুল খালিক বা কাউকেই আশা’র কোন লোন অফিসার এভাবে কাউকে ঋণ আদায়ের জন্য বলেন নি। এপ্রিল- মে মাসে ঋণ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। জুন মাসে কেউ নিজের তাগিদে কিস্তি দিলে গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রতারণার বিষয়টি জেনে সকলকে সতর্ক করা হচ্ছে, তারা যেন পরিচিত লোন অফিসার ছাড়া কারো কাছে ঋণ পরিশোধ না করেন।
ব্র্যাকের একজন লোন অফিসার জানালেন, সুনামগঞ্জে এ ধরণের কোন প্রতারণার ঘটনা তাদের কোন ঋণ গ্রহিতার ক্ষেত্রে ঘটে নি। তবে অন্য একটি জেলায় ঘটেছে। এরপর থেকে তারা সারা দেশে ঋণ গ্রহিতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ যেন ব্র্যাকের পরিচিত লোন অফিসার ছাড়া টাকা লেনদেন না করেন। বিকাশে টাকা দিতে হলেও ব্র্যাকের কর্মীর উপস্থিতিতে দিতে হবে।
ব্র্যাকের জেলা ম্যানেজার এ কে আজাদ বলেন, প্রত্যেক সেবা গ্রহিতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিলেও যেন তারা সারা না দেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি সঞ্জুর মুর্শেদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনেই এনজিওগুলো কিস্তি আদায় করবেন। অপরিচিত নম্বর থেকে এভাবে ফোন দিয়ে কেউ কিস্তি দেবার জন্য ভয়ভীতি দেখালে পুলিশকে জানাতে পারেন। পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।