ওএমএস‘র লাইনে অপেক্ষামানরা ক্ষুব্ধ

শহীদ নূর আহমেদ
‘৪ দিন ধইরা ফতাবেলা আনা খাইয়া চাউলের লাগি আই। বাড়ির হখলতা উপাস।  চাউল লইয়া গেলে ভাত রান্দা অইত। সারা দিন লাইনও উবাইয়াও চাউল ফাইছি না। দোকানদার কয় চাউল শেষ আর চাল দেওয়া যাইত না। কালকে আইলে চাউল দিব। প্রতিদিন একই কথা কয় তারা, চাউলত দেয় না। ২০ টেখা খরচ কইরা চাউলের লাগি আই আর খালি হাতে ফিইরা জাওয়া লাগে।’ চাল না পেয়ে  আবেগ তাড়িত কন্ঠে এমনি কথা বলেন সদর উপজেলার রফিকুন নেছা নামে ভাদরপুর এলাকা থেকে আসা মধ্যবয়সি এক নারী। চাল না পাওয়ায়  খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান তার মত শ’ খানেক নারী ও পুরুষ।
এমনি বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করে মঙ্গলবার ভোর রাত্র থেকে ঘণ্টার পর ঘন্টা চালের জন্যে পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যা›ড এলাকার ওএমএস‘র ডিলারের দোকানে অপেক্ষা করতে দেখা যায় শহরতলি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শত শত নারী, শিশু ও পুরুষকে। সময় যতই গড়ায় ডিলারের দোকানে মানুষের ভিড় ততই বাড়তে তাকে।  নারী ও শিশুদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। সকাল নয় টায় চাল বিতরণ শুরু হলে চাল পাওয়া নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে একে অন্যের সাথে ধাক্কাধাক্কি করতেও দেখা গেছে অনেককে। প্রচন্ড চাপে কেউ টিকে থাকছেন লাইনে আবার কেউবা লাইনচ্যুত হয়ে জায়গা পেয়েছেন সবার শেষে। নির্ধারিত ২০০ জনকে চাল দেয়ার পর বিতরণ বন্ধ হলে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা চড়াও হন ডিলারের উপর।
শহরের ইকবাল নগর থেকে আসা মিমজান বিবি নামে এক নারী বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানি আছলাম ৫ কেজি চালের আশায়। মানুষের ধাক্কাধাক্কির কারণে বারবার পিচ্ছাই গেছি। আজকে লইয়া ৩ দিন লাইনে দাঁড়াইছি কিন্তু চাল পাইছি না। ডিলাররায় দেইক্কা দেইক্কা মানুষরে চাল দেয় আর আমরা চাল পাইনা।
ইব্রাহীমপুর থেকে আসা আব্দুস সালাম বলেন, চাউল মাত্র ২০০ জনরে দেয় কিন্তু মানুষ আয় ৫০০ জনেরও বেশি। এর মধ্যে কিছু মাইনষে প্রভাব দেখাইয়া চাউল নেয়। আমরা গরীব মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াইয়া থাকি। এভাবেই চাল না পেয়ে মনের দুঃখে বাড়ি ফিরে গেছেন শত শত মানুষ।
২২ দিনের একটি বাচ্চা নিয়ে চাল নিতে আসেন ওয়েজখালি এলাকার রুবিনা বেগম। দুইদিন পর চাল পেয়ে খুশি হয়ে বলেন, আমি দুই দিন পর চাল পাইছি। কষ্ট কইরাও চাল পাওয়ায় খুব ভালা লাগের।
চাল বিক্রিতে স্বজনপ্রীতি, ওজনে কম দেয়া সহ ডিলারের নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও চাহিদা আনুপাতে চালের বরাদ্দের পরিমাণ কম বলে সকল গ্রাহককে চাল দিতে পারছেন না বলে দাবি ডিলারগণের।
কেবি মোরশেদ ডিলারের মালিক কে বি জাহাঙ্গীর বলেন বরাদ্দের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি। আমরা প্রতিদিন ২০০ মানুষকে চাল ও আটা দেই। ২০০ জন দেয়া শেষ হয়ে গেলে চাল বিতরণ বন্ধ করে ফেলি। এসময় উপস্থিত মানুষ আমাদের উপর চড়াও হয়ে যায়। আমাদের এখানে কিছু করার থাকে না। বরাদ্দ না বাড়ানো হলে মানুষের চাহিদা নিরূপণ করা যাবে না।
পৌরশহর ও বিভিন্ন উপজেলার একাধিক ডিলারের দোকানে খোঁজ নিয়ে একই খবর পাওয়া যায়। এই ওএমএস ডিরারের সংখা না বাড়ালে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে বলে আশংকা বিভিন্ন মহলের।