সড়কের উপর হাট বসানো আমাদের দেশের বহু পুরনো অভ্যাস। বিশেষ করে হাটবারে পথের পাশে বিভিন্ন পণ্যের খোলা-দোকান বসানোর রেওয়াজ নতুন নয়। সে-সময়ে এমন দোকানের কারণে মানুষের তেমন কোন অসুবিধা হত না। তখন এখনকার মত এত যানবাহন ছিল না। পথে লোকজনের যাতায়াতও ছিল কম। এসব দোকানে কারও তেমন অসুবিধা হত না। সে-কালের রীতি এ-কালে খাটে না। এখন রাস্তা বড় হয়েছে। যানবাহনের প্রকার ও পরিমাণ বেড়েছে। মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। তাই সড়কের পাশে অজ¯্র দোকান থাকলে অসুবিধা হয়। চলাচলে অসুবিধার চাইতেও বড় হলো যানবাহনগুলো আটকে পড়ে এসব দোকানের কারণে। রাস্তার পাশে স্থাপিত কোন কোন হাট পেরোতে বহু সময় ব্যয় হয়। এ-সময়ের ব্যস্ত মানুষ কেন এই ভোগান্তি সইবে? মানুষ এখন দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়। তাই রাস্তার পাশে হাট এখন চরম অনাহুত। সরকারি আইনেও এমন দোকান বসানো রীতিমত অবৈধ। কিন্তু বাপ-দাদার অভ্যাস আমাদের রক্তে মিশে গেছে। দোকানিরা যেমন রাস্তাকে পছন্দ করে খদ্দেররাও তেমন। রাস্তার অনতিদূরের দোকানে যেতেও দারুণ অনীহা তাদের। যেন কয়েক কদম হাঁটার মত গায়ের জোর নেই কারও শরীরে। এই সে-কালীন সংস্কৃতিকে বদলে দিতে সরকারের তরফে মাঝে-মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু দিনের অবসানে যেই-কে-সেই হয়ে উঠে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদরের পাশেই ওয়েজখালী। এখন পৌরসভার অন্তর্গত, মর্যাদায় শহর। শহর থেকে বেরোতে প্রথমেই ওয়েজখালী অতিক্রম করতে হয়। শহরের বহির্মুখে এই ওয়েজখালির সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের উপর তৈরি হয়ে গেছে বিশাল এক বাজার। মাছের দোকান, সবজির দোকান, নিত্যপণ্যের দোকান, শুটকির দোকান, পান-সুপারির দোকান; আরও কতকিছু। জমজমাট বাজার। খদ্দের আর বিক্রেতার সমারোহে ভীষণ প্রাণচঞ্চল এই হাটটি। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাতের প্রথম ভাগ পর্যন্ত প্রচ- ভিড় হয় ওখানে। ঠেলেঠুলে এগোতে পারে না গাড়ি। গতি ধীর হতে হতে থেমে যায়। বেপরোয়া কেউ ভিড় ঠেলে দাপটে এগোতে গেলে ঘটে দুর্ঘটনা। রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি, অটো, ছোট-বড় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান সবকিছুর জটলা লেগে থাকে ওখানে। সাথে মানুষের জটলা। অসহনীয় অবস্থা। অথচ ওই রাস্তার উপর কোন দোকান বসার কথা নয়। পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তার অদূরে বানিয়ে দিয়েছেন কিচেন মার্কেট, যেখানে অনায়াসে চলে যেতে পারে সড়কের সকল ভাসমান দোকান। কিন্তু রাস্তার উদোম আকাশ ছেড়ে কেউই কংক্রিটের নিরাপদ ছাদের নীচে যেতে রাজি নন। ফলে খালি পড়ে আছে কিচেন মার্কেট। দোকানীদের সাফ-জবাব একটাই। খদ্দেররা যেতে চান না ওখানে। কিন্তু যে কথাগুলো দোকানীরা বলেন না তা হলো, কখনও কি তারা চেষ্টা করেছেন কিচেন মার্কেটে যেয়ে খদ্দের আকর্ষণের? সেটি না করেই তারা বেমালুম সকল দোষ চাপিয়ে দেন নিরীহ খদ্দের বেচারাদের উপর। একটা সহজ হিসাব তারা বুঝেন না, সড়কের পাশে কোন দোকান না থাকলে খদ্দেররা বাধ্য হবেন কিচেন মার্কেট অব্ধি হাঁটতে। বিড়ালের গলায় ঘণ্টিটা বাঁধতে হবে দোকানীদেরই। তবে কথা আছে আরেকটি। ভদ্র গোছের দোকানদাররা যদি নিয়ম মেনে কিচেন মার্কেটে যান আর খচ্চর মার্কা আরও কিছু দোকান সড়কের পাশে থেকে যায় বিপত্তি তখনই তৈরি হবে। মানুষ দৃষ্টি সমুখে প্রথমেই যে দোকান পাবে সওদা করতে সেখানেই ছুটবে। ্এই জায়গায় নিয়ম রক্ষার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের।
সড়ক দেখ-ভালের দায়িত্ব এর মালিক-মুখতার সড়ক ও জনপথ বিভাগের। মূল দায়িত্বটা তাদেরই নিতে হবে। অবিলম্বে জেলা সদরের বহির্মুখে জেলার প্রধান সড়কের উপর স্থাপিত বিশৃঙ্খলা তৈরিকারী এই ভাসমান দোকানগুলো অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। উচ্ছেদের পরেও আর কেউ যাতে সড়কে দোকান মেলতে না পারে সে-জন্য কঠোর তদারকি ও শাস্তির বিধান করতে হবে। আমরা আশা করি তারা অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

