করোনাকালে জেলায় নতুন পাসপোর্ট হচ্ছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
করোনাকালে নতুন পাসপোর্ট হচ্ছে না সুনামগঞ্জে। ই-পাসপোর্ট চালুর কার্যক্রমও পিছিয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাসপোর্টের মেয়াদ যাদের শেষ তারা পড়েছেন বেকায়দায়। পহেলা জুন থেকে পাসপোর্ট অফিস খোলার পর দুইজন কর্মচারী কেবল পাসপোর্ট ডেলিভারী দেবার কাজ করছেন। জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অর্জুন কুমার ঘোষ বললেন, শারিরিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্যই যেসব পাসপোর্ট অফিস এখনো আপডেট হয় নি, সেগুলোতে নতুন পাসপোর্ট করার কাজ হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নতুন ভবন হয়েছে মল্লিকপুর জেলা পরিষদ সড়কে। ওই ভবনে পাসপোর্টে অফিস মার্চের শেষ সপ্তাহে স্থানান্তর এবং ৭ এপ্রিল ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হবার কথা ছিল। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হলে শারিরিক দুরত্ব মেনেই নতুন পাসপোর্ট করার কাজ করা সম্ভব হতো।
ই-পাসপোর্ট হয় ১০ বছর মেয়াদী। ই-পাসপোর্টধারীরা দেশের বাইরে যেতে ইমিগ্রেসনেও বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ইমিগ্রেসনে সময় কম লাগে।
সুনামগঞ্জের বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্কস্টেশনের একাধিক আমদানীকারক জানিয়েছেন, তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে মার্চ মাসেই। পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে তারা জেনেছেন, অফিস খুললেও এখন নতুন পাসপোর্ট করা যাবে না।
আমদানী কারকরা বলেছেন, এই অবস্থায় আমদানী-রপ্তানী চালু হলে বা ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হলেও ব্যবসার প্রয়োজনে ভারত বা ইন্দোনেশিয়ায় যেতে পারবেন না তারা। যেতে হলে নতুন পাসপোর্ট করার পর, ভিসার আবেদন করে ভিসা পেতে সময় ক্ষেপন হবে তাদের। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হলে এই যন্ত্রণার অবসান হতো।
সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অর্জুন কুমার ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে যিনি আসবেন তার হাতের আঙ্গুলের ছাপ নেবার সময় আঙ্গুলে ধরতে হয়। একেবারে কাছাকাছি বসতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি নেবার সময় মাথায়ও ধরা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে শারিরিক দুরত্ব মেনে কাজ করা কঠিন। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম যেখানে চালু হয়েছে, সেখানেই কেবল শারিরিক দুরত্ব মেনে সীমিত আকারে কিছু নতুন পাসপোর্ট হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম যেখানে শুরু হয় নি। সেখানে সুনামগঞ্জের মতোই নতুন পাসপোর্ট করার কাজ হচ্ছে না। তিনি জানান, মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় যোগাযোগ করেছিলেন ই-পাসপোর্ট চালু’র কাজ কবে শুরু হবে এই বিষয়ে জানতে। উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন, এই কাজে যুক্ত বিদেশী প্রকৌশলী বা টেকনিশিয়ানরা। তারা এই সময়ে বাইরে গিয়ে কাজ করছে না। এই অবস্থায় করোনাকালে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হবে কী না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। আরও কিছুদিন গেলে হয়তো এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।