বিশেষ প্রতিনিধি ও আলী আহমদ
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরের পৌরসভা নির্বাচনে এবার প্রচারণায় বিদেশীরা কম এসেছেন। এ কারণে ওই পৌরসভার নির্বাচনী উৎসব জমেনি। এ উপজেলায় নির্বাচনী উৎসব সব সময়ই জমে ওঠে প্রবাসীদের আগমনে। এবারও নির্বাচনে ৪ মেয়র প্রার্থীর ৩ জনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তবে পৃথিবীব্যাপি করোনা ছড়ানোর আগেই এরা দেশে এসেছিলেন। তাঁদের স্বজন- সমর্থকদের অনেকেই দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে এসে প্রচারণায় অংশ নিতে বাধারমুখে পড়বেন এজন্য এরা দেশে আসছেন না। এরপরও গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ জন প্রবাসী এসেছেন এবং এরা তাদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন বলেও স্থানীয় একাধিক ভোটার জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও এই বিষয়টি ঝুঁকি হিসাবে দেখছেন এবং পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে বৃহস্পতিবার বিকালে চিঠি দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হিসাবে পরিচিত। এই উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ৭ টিতেই বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। জগন্নাথপুর পৌরসভায় সদ্য প্রয়াত মেয়র আব্দুল মনাফও ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
এখানকার জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে প্রবাসীরা এসে প্রার্থী হবার চেষ্টা করেন। আবার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাও জমে ওঠে প্রবাসীদের আগমনেই। বেশিরভাগ প্রবাসী নির্বাচনী প্রচারণার শেষমূহূর্তে দেশে ফেরেন। এটাই এখানকার রেওয়াজ। এবার কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে করোনা ভাইরাসের কারণে। তবে যারা এসেছেন তাদের নিয়ে চিন্তিত ভোটার এবং স্থানীয় প্রশাসনও।
পৌরসভার ভোটার মুজিবুর রহমান মুজিব জানালেন, পৌর নির্বাচনে এবার উৎসবে ভাটা পড়েছে। প্রবাসীরা না আসায় জমছে না ভোট উৎসব। প্রবাসীরা আসলে দুই হাতে টাকা খরচ করেন, যে কয়দিন থাকেন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় থাকেন। এজন্য তাদের আগমনে ভোট উৎসব জমে ওঠে। এবারের পৌর নির্বাচনে ৩ প্রার্থী যুক্তরাজ্য থেকে এসে প্রার্থী হলেও, তাদের স্বজনরা প্রচরানায় এসে যুক্ত হতে পারছেন না।
আরেক ভোটার আব্দুস সালাম বলেন, ২৯ মার্চ ভোট, প্রচারণায় শেষ সময় চলে আসছে, এখনো ভোট উৎসব জমেনি। প্রবাসীরাও আসবেন না, ভোটও জমবে না।
স্থানীয় একজন গণমাধ্যম কর্মী জানালেন, ৮-১০ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভোটের প্রচারণায় এসে যুক্ত হয়েছেন। এদের নিয়ে স্থানীয় লোকজন নানা কথাবার্তা বলছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার কথা, কিন্তু তারা সেটি মানছে না।
এই গণমাধ্যমকর্মী বললেন, ভোটের প্রচারণায় অনেক স্থানেই গণজমায়েত হচ্ছে, এই বিষয়টিকেও ঝুঁকি মনে করছেন অনেকে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বললেন, নির্বাচনী প্রচারণা আমি ঠেকাতে পারবো না। প্রার্থীরা বাড়ী বাড়ী যাচ্ছে, হাতও মেলাচ্ছে, ঝুঁকি জেনেও তারা সেটি করছে ভোটের জন্য। আমার পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মহোদয়কে চিঠি পাঠিয়েছি। তিনিও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি সকলকে বলেছি প্রচরণায় জমায়েত ঘটানো যাবে না। এরপরও ঘরোয়া বৈঠক হচ্ছে। শুক্রবার মসজিদে মসজিদে প্রচারণা চালানোয় কিছুটা নিরবতা এসেছে। ৪ মেয়র প্রার্থী’র ৩ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী, এরা আগে এসেছেন, কিন্তুগত ১০-১২ দিনের মধ্যে ৮-১০ জন প্রবাসী দেশে এসেছেন। আজ (শুক্রবার) এদের দুজনের বাড়ী আমি নিজে গিয়েছি, বলে এসেছি, আপনারা বাড়ী’র ভেতরে না থাকলে আইনানুগগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত. জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ৪ প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমদ (ধানেরশীষ), সদ্য প্রয়াত মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন সেলিম (জগ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবিবুল বারী আয়হান (মোবাইল ফোন)।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় মেয়র আব্দুল মনাফের মৃত্যুতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ পৌরসভার ২৭ হাজার ১৪২ জন ভোটার ভোট দেবেন।


