বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে নদী ও খালবিল শুকিয়ে অবাধে চলছে মাছ নিধন কাজ। এতে করে একদিকে যেমন মাছের বংশ বিস্তার রোধ করা হচ্ছে অন্যদিকে নদীর তলদেশ শুকিয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ও ঘটানো হচ্ছে। এছাড়া গোসলসহ মানুষের নিত্যকর্ম সারতে যে সামান্যটুকু পানি প্রয়োজন, নদীর তলদেশে তাও অবশিষ্ট রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
নদী থেকে একেবারে ছেঁচেপুছে পানি নিষ্কাশন করে মৎস্য আহরণ করছে ওই মাছ শিকারীরা। এ নিয়ে ক্ষোব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন নদী দূষণের শিকার সাধারণ মানুষ। শুষ্ক এই মৌসুমে দিনের পর দিন মাছ শিকারী সংঘবদ্ধ চক্র নদী শুকিয়ে নদীদূষণসহ গৃহস্থালী কাজ ও দেশীয় মাছের বংশ বিস্তারে মারাত্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও এক্ষেত্রে উপজেলা মৎস্য অফিস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনেকটা দায়িত্বহীন উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না নদী তীরবর্তী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে কোন ধরনের জোড়ালো পদক্ষেপ
না নেয়ায় মাছশিকারী ধূর্ত গোষ্ঠী আগ্রাসী রূপ ধারণ করছে। নদী সেচে কেউ বাধা দিতে গেলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি-ধমকির পাশাপাশি বাধা প্রদানকারীর প্রতি তেড়ে আসার ঘটনাও ঘটছে। সরজমিন দেখে ও ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা শোনে এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে সাচনা বাজার ও বেহেলী ইউনিয়নের মধ্যভাগে অবস্থিত পিয়াইন নদীর সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সাচনা বাজার থেকে সাচনা, রামপুর, রহিমাপুর, হরিহরপুর, কুকড়াপশী ও ভরতপুর পর্যন্ত প্রবাহমান পিয়াইন নদীর অধিকাংশ জায়গা শুকিয়ে মাছ ধরার কাজ চলমান রেখেছে অবৈধ মাছ শিকারীরা। তারা নদীর বিভিন্ন স্থানে সেচ মেশিন বসিয়ে নদী পানিশূন্য করে বেশ শক্তিমত্বার সাথে মাছ শিকার করে চলেছে। এই অবৈধ মাছ শিকারীদের ভয়ে অনেকে মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেও কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে এদের প্রতি মাছ শিকারীরা রূঢ় আচরণ করছে বলে জানা গেছে।
রহিমাপুর ও হরিহরপুরের ভুক্তভোগী অনেকে জানিয়েছেন, হরিহরপুরের ঝুনু ও জালালের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটা দল নদীর বারোটা বাজাচ্ছে। তারা যেভাবে নদী শুকিয়ে মাছ ধরছে তাতে যাদের বাড়িতে টিউবওয়েল নেই তাদেরকে মারাত্বক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এমনকি নদী পানিশূন্য থাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা ওজু করতেও সমস্যার সম্মুখীন হবে। গোসল থেকে শুরু করে হাত-পা ধোয়া পর্যন্ত নদীর পানির খুবই দরকার।
এখন নদীতে পানি না থাকায় সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সারবে, এ প্রশ্ন রেখে ভুক্তভোগীরা বলছেন, নদী শুকিয়ে মাছ ধরার ব্যাপারে বাধা-নিষেধ থাকলেও তারা তা মানছে না। বরং বাধা দিতে গেলে তারা ক্ষেপে উঠে বলছে, ‘কেউ কিছু করতে পারলে করে যে।’
এ নিয়ে মাছ শিকারী ঝুনু মিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নদীর পানি আমরা শুকাইছি না। ক্ষেতে পানি দিয়া নদীর পানি শুকানো হইছে। আর এখন আমরা যার যার বাড়ির সামনের ডোবা সেচ কইরা, তাদেরকে অর্ধেক দিয়া মাছ ধরতাছি। এইডা কোন অপরাধ না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিত প-িত বলেন, ‘এ সমস্যা দূর করা আসলে আমাদের একার কাজ নয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়বদ্ধতা আছে। যেহেতু নিষেধ দেওয়ার পরও তারা আবার নদীতে নেমে মাছ ধরছে সেহেতু স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


