করোনার প্রভাব পড়েছে ইফতারি বাজারেও

পুলক রাজ
অন্য বছর সকাল থেকেই ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হতো। দুপুর গড়ালেই স্থায়ী ও অস্থায়ী ইফতারের দোকান বসতো। কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীও রাস্তার পাশে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করতে বসতেন। নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ইফতারসামগ্রী কেনার জন্য সেখানে ভিড় করতেন। এবার সেখানে একদম নেই তেমন আয়োজন। নেই ক্রেতা তেমন সমাগমও। অন্য সময় হরেক পদের যেসব ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলত, এবার সেসব দেখা যায়নি। করোনায় বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার প্রভাব পড়েছে ইফতারি বাজারেও।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ইফতারির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, জিলাপি ১২০ টাকা কেজি, বাখরখানী ৫ টাকা পিস, চিকেন কাটলেক ২০ টাকা পিস, আলুর চপ ৫ টাকা পিস, চানা ১২০ টাকা কেজি, ডালের বড়া ১২০ টাকা পিস, শাকের বড়া ৫ টাকা পিস, চিকেন রুল ২০ টাকা পিস, সবজি রুল ১০/১৫ টাকা পিস, মাছের বড়া ৫ টাকা পিস, চিকেন কাবাব ২০ টাকা পিস, বেগুন ভড়া ৫ টাকা পিস, পোলাও ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা মুস্তাক মিয়া বলেন, মানুষ চলাফেরা করতে করোনা ভাইরাসকে এখন ভয় পায় না। কিন্তু খাবারের বেলায় সচেতন থাকা জরুরী। বাইরে থেকে ভাজাপুড়া কিনতে মনের মধ্যে সন্দেহ থাকে। রমজান মাসে এই প্রথম আজ বাইরে থেকে ইফতারের জন্য বাখরখানী কিনছি।
ক্রেতা ফাইজা বেগম বলেন, বাজারে এমনিতে কম আসা হয়। আজকে ঈদের শপিং করতে ঘরের বাইরে অনেক দিন পর বের হয়েছি। তাই ইফতার করার জন্য কিছু খাবার কিনে নিচ্ছি। করোনা ভাইরাস যখন ছিলো না তখন ইফতারি প্রায় প্রতিদিনই বাইরে থেকে কিনতাম। অন্য রমজান মাসে তো ইফতারির দোকানে ভিড় জমে থাকতো। এখন তো ইফতারির দোকান হাতে গোনা কয়েকটা আছে। ক্রেতাও কমে গেছে।
বিক্রেতা মো. হিমেল মিয়া বলেন, অন্য বছর রমজান মাস আসলেই মানুষের মধ্যে ইফতারী নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকতো। মানুষ বিভিন্ন দোকান ঘুরে ইফতারি কিনে নিয়ে যেতো। তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইফতার বিক্রি করছি। করোনার কারণে ক্রেতার সংখ্যা এবার একেবারে কম। অন্য রমজান মাসে দম ফেলার সময় ফুসরত থাকতো না। কাস্টমার লাইন পড়ে যেত। অন্য বারের তুলনায় বেচাকিনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিক্রেতা পৃতেষ দাশ বলেন, এখন ইফতারি বিক্রি করতে হচ্ছে একেবারে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে। প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ হাজার টাকা ইফতার বিক্রি হয়। ইফতারের ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে দোকানও কমে গেছে। যারা নিচ্ছেন কম কম করে নিচ্ছে।
বিক্রেতা পংকজ দেব বলেন, রমজান এলেই বিকেল থেকে ইফতারি বিক্রির ধুম লেগে যেতো। ক্রেতারা মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের ইফতারি আইটেম কিনতে হোটেল রেস্টুরেন্টে ভিড় করতেন। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও করোনা পরিস্থিতি সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। এখন অল্প কিছু ইফতারি নিয়ে দোকানিরা বসে থাকলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ক্রেতার।