করোনা আর বন্যা কেড়ে নিয়েছে ঈদ আনন্দ

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে করোনা আর বন্যা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আযহায় আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। অন্য বছরের মতো এবার সবার কোরবানি দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে আক্ষেপ বিরাজ করছে। ঈদুল আযহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এ আক্ষেপ বাড়ছে হাওর সহ সীমান্তবর্তীর নি¤œবিত্ত মানুষদের মধ্যে।
জানা যায়, একদিকে করোনা, বন্যা আর বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী শুল্কস্টেশনে আইনী জটিলতায় কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় হাওর ও সীমান্তবর্তী মানুষের এখন জীবন-যাপন করাই বড় কঠিন হয়ে পড়েছে। কিভাবে ঈদ উদযাপন করবেন সেই দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে এখন তাদের। ঈদুল আযহার আর মাত্র হাতেগুনা কয়েকদিন বাকি। কিন্ত হাওর এলাকার মানুষ কোরবানির জন্য পশুর হাটে গরু, ছাগল বা অন্য কোন পশু ক্রয় করতে তেমন একটা দেখা যাচ্ছেনা। এমনকি ঈদে বাচ্ছাদের জন্য নতুন পোশাক কেনার করার আগ্রহ থাকলেও সাধ্যে হচ্ছেনা অনেকের মধ্যে।
রবিবার উপজেলার সব ছেয়ে বড় বাজার বাদাঘাট ও বালিয়াঘাট নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নি¤œ আয়ের মানুষের সন্তানরা ঈদের জন্য নতুন জামা কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরছে। কিন্ত গার্মেন্টস দোকানে পোশাকের দাম বেশী হওয়ায় তারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাদাঘাট বাজার, তাহিরপুর সদর বাজার, বালিয়াঘাট নতুন বাজার, বড়ছড়া জয় বাংলা বাজার, শ্রীপুর বাজার সহ কয়েকটি ছোট বড় বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম এখন বেশী। যা ক্রয় করা অনেকের মধ্যে সাধ্য হচ্ছে না। গরুর হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু থাকলেও, তেমন ক্রেতা নেই। যে কয়জন আছেন, তারাও দাম বেশি হওয়ায় পশু কিনতে পারছেন না। যার ফলে এবার কোরবানি দেওয়া অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে হাওর এলাকার মানুষদের মধ্যে। তাহিরপুর সদর বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল জানান, এখনও ঈদ বাজার তেমন জমে উঠেনি। মানুষের হাতে এ বছর টাকা না থাকায় ঈদ বাজার জমে উঠবে কিনা এখনও সন্দেহ আছে।
তাহিরপুর সদর বাজারে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাজার করতে আসা রাজন, রমিজ মিয়া জানান, এবার একদিকে করোনা, আবার বন্যায় হাওর এলাকার মানুষ এবছর খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এরই মাঝে কি ভাবে আল্লাহর নামে কোরবানি দিবেন সেই চিন্তাই এখন সময় পার করছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, সুনামগঞ্জে এবছর করোনা আর দফায় দফায় বন্যায় হাওর এলাকার মানুষ বিপর্যস্ত। অপরদিকে বড়ছড়া, চারাগাঁও বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় সীমান্তবর্তীর নি¤œ আইয়ের মানুষও কষ্টে দিনপাত করছেন। তাই এবার কোরবানি কম হওয়ার সম্ভবনা আছে।