কল্যাণপুরের ঘটনা ইতিহাসের সফল অভিযান

সু.খবর ডেস্ক
রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ কে ইতিহাসের সফল অভিযান বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কল্যাণপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুলশান হামলার মতো বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় কল্যাণপুরে আস্তানা গড়েছিল জঙ্গিরা। তারা গত ২০ জুন কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ৫৩/৩ তাজমঞ্জিল নামের ৬ তলা ভবনের পঞ্চম তলা ভাড়া নেয়। তারা গুলশান হামলায় জড়িত জঙ্গিগোষ্ঠী দলেরই সদস্য।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গতকাল জঙ্গিরা ওই ভবনটিতে হামলার পরিকল্পনা বিষয়ে জড়ো হয়। আমাদের কাছে তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে রাত ১২টার পর আমরা বাড়িটির চারদিক ঘিরে ফেলি। এসময় ভবনের পেছনে পাইপ বেয়ে দুই জঙ্গি ‘আল্লাহুআকবার’ ধ্বনি দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হন। আরেকজনকে আহত অবস্থায় আটক করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার নাম হাসান বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রাত আড়াইটায় সোয়াত টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের বিশেষায়িত টিম, পুলিশ, র‌্যাবের সমন্বয়ে অভিযান পরিকল্পণা গ্রহণ করেন। এরপর অনুমতি দেয়া হলে ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ পরিচালনা করে আইনশৃংখলা বাহিনী। এক ঘন্টায় অভিযান সফল হয়। ৯ জঙ্গি পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়।
তিনি বলেন, সোয়াত টিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের সময় জঙ্গিরা আইনশৃংখলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমা, গুলি ছোড়ে। পাল্টা পুলিশও গুলি করলে তারা সবাই নিহত হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জঙ্গিদের সবার গায়ে কালো পোশাক, পরণে জিন্স পেন্ট এবং একজন ব্যতিত সবার পায়ে ক্যাডস পড়া ছিল। তারা সবাই গুলশান হামলায় জঙ্গিদের মতো উচ্চ শিক্ষিত ছিল।
নিহত ৯ জনকে জঙ্গি ও উচ্চ শিক্ষিত দাবি করলেও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তাদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, গুলশান হামলায় যারা জড়িত ছিল কল্যাণপুরের জঙ্গিরা একই গ্রুপের সদস্য। তারা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পণায় সেখানে অবস্থান নিয়েছিল।
ভবনটির পঞ্চমতলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে গ্রেনেড, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, বেশ কয়েকটি অস্ত্র, জিহাদি বই, তলোয়ার, চাকু, পাগড়ি, আল্লাহুআকবার লেখা তুর্কি কালো পতাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।