কাঁচা মরিচে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কাঁচা মরিচের দাম প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন এবার চার দফা বন্যা হওয়ায় কাঁচামরিচ ফলনে বিলম্ব হবে। দাম থাকবে আরও কমপক্ষে ২ মাস।
একাধিক সবজী চাষী জানিয়েছেন, চার দফা বন্যায় বার বারই মরিচের বীজ বপন করা ক্ষেতে পানি ওঠেছে। এ কারণে চারা ওঠতে এবার বিলম্ব হচ্ছে। অবশ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গাছের চারা হবে বলে জানিয়েছেন চাষীরা। চারা রোপনের দুই মাস পর মরিচের ফলন হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এরপর বাজারে আসবে স্থানীয় কাঁচা মরিচ। তখন কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করবে।
সুনামগঞ্জ শহরের কাঁচা মরিচের পাইকারী বিক্রেতারা জানান, স্থানীয় কাঁচা মরিচ বাজারে নেই। বাইরের জেলা থেকে আনা কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন তাঁরা। বাইরের কাঁচা মরিচ পাইকারী দরে বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ২৮০ টাকা দরে। এই মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩ শত টাকা কেজি দরে।
সদর উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের কৃষক আনসার উদ্দিন বলেন, এ বছর বার বার বন্যায় ও অতি বৃষ্টিতে সময়মত সবজি ফলানো যাচ্ছে না। মরিচের চাষাবাদেও বিলম্ব হচ্ছে। মরিচের বীজ বপন করার পর অতি বৃষ্টি বন্যায় নষ্ট করে দিয়েছে। অনেক বিলম্বে এবার মরিচের চাষ করা হচ্ছে। সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক জহুর মিয়া, রবি রহমান, বাদশা মিয়া, আনু মিয়া, রিপন মিয়া জানান, প্রতি বছর এই সময়ে কাঁচা মরিচের দাম একটু বেশি হয়। কিন্তু এবার অতিরিক্ত দামে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে স্থানীয় কাঁচা মরিচ বাজারে আসবে।
জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের কৃষক বিলাল মিয়া, সায়েদ মিয়া, আরব আলী জানান, চার দফা বন্যার কারণে সকল প্রকার সবজির চাষ পিছিয়ে গেছে। সেই সাথে কাঁচা মরিচের চাষও পিছিয়েছে। স্থানীয় কাঁচা মরিচের উৎপাদন না থাকায় জেলার হাট-বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অনেক বেশি।
ক্রেতা আব্দুস সহিদ বলেন, কাঁচা মরিচ কিনি না ১ মাস ধরে। শুকনা মরিচ দিয়ে কোনো মতে চালিয়ে যাচ্ছি। দাম জিজ্ঞেস করতেও চাই না। আজ দাম জিজ্ঞেস করেছি। বিক্রেতা বলছেন ৩ শত টাকা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ।
পাইকারী বিক্রেতা জুয়েল মিয়া জানান, সুনামগঞ্জের সকল হাট-বাজারে বাইরের জেলার কাঁচা মরিচ। দামে কিনে, দামে বিক্রি করি। স্থানীয় মরিচ না আসা পর্যন্ত কাঁচা মরিচের দাম কমবে না।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রব জানান, এ বছর বার বার বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে সকল প্রকার সবজি চাষের বেশ ক্ষতি হয়েছে। মওসুম চলে যাওয়ার পর চাষ করলে তেমন ভাল হয় না। মরিচের চারা রোপনের পর ফলন হতে আরো ২ থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে।