এনামুল হক, ধর্মপাশা
সড়ক ও সেতু দুটিই আছে তবুও বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। হেমন্তে সড়কের কিছু অংশ ব্যবহার করে ও সেতু সংলগ্ন বিকল্প জায়গা দিয়ে হেঁটে অথবা মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত করতে হয়। কখনও কখনও সেতুতে উঠতে ব্যবহার করা হয় বাঁশের তৈরি বিশেষ মই। এমন অবস্থা ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৪টি সেতুর কোনোটিই কাজে আসছে না। প্রতিটি সেতুর এপ্রোচের মাটি সরে গেছে। বর্ষায় দূর থেকে শুধু সেতুগুলো দেখা যায়। সড়ক ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সড়কের কোনো দেখা পাওয়া যায় না। এ সড়কের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটারই পুরোপুরি অকেজু হয়ে পড়ায় যান চলাচলতো দূরের কথা মানুষ হেঁটে যাবে এমন ব্যবস্থাও নেই। ফলে জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনগণসহ জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরটিআইপি) প্রকল্পের আওতায় ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ঠিকাদার মনোনীত হয় মঞ্জুরুল আহসান অ্যান্ড কোং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫.১ কিলোমিটার অংশের কার্যাদেশ দেওয়া হয় তাদের। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারা কাজ শুরু করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত দেখিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল আলম চৌধুরী বিলে স্বাক্ষর করে সুনামগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তামজিদ সরওয়ারকে প্রেরণ করলে তিনি যাচাই বাছাই ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন করেন। মো. তামজিদ সরওয়ারসহ অভিযুক্তরা সর্বমোট ১ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৪ টাকা আত্মসাত করেন মর্মে দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা করেন। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি ধর্মপাশা থেকে জয়শ্রীর দূরত্ব ৭ কিলোমিটার হলেও কান্দাপাড়া থেকে জয়শ্রী বাজার পর্যন্তÍ প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ করলেই এখানকার জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সহজতর হবে। জটিল রোগী, গর্ভবতী মহিলাদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে পৌছাঁনোর বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় শিক্ষক মাজহার সিদ্দিকি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া বর্ষায় নৌকায় আর শুকনো মৌসুমে এবড়োতেবড়ো ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলে যোগাযোগ করতে অনেক কষ্ট হয়। শুকনো মৌসুমে রোগী নিয়ে হাসপাতাল যেতে চাইলে দুর্ভোগের শেষ থাকেনা।’
জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ সড়কটি জয়শ্রীবাসীর একমাত্র দুঃখের কারণ। এর কারণে জয়শ্রীবাসীসহ আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
আপাতত সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। তবে এ সড়কের উপর ফ্লাইওভার নির্মিত হবে বলে আশার বাণী শোনালেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভার নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি সেতু যাতে মানুষজন ব্যবহার করতে পারে সেজন্য সেতুগুলোর উভয়পাশে ৫০ মিটার করে সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে।


