কেন্দ্রীয় বিএনপিতে সুনামগঞ্জের ৫ নেতা- কারা জেলার সভাপতি ও সম্পাদক হবেন?

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ৫ নেতা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। জেলা নেতৃত্বের মূল পদে আসীন হওয়ার যোগ্যতা এই ৫ নেতার সকলেরই ছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা এই ৫ নেতাকে কেন্দ্রে স্থান দেওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলের সুনামগঞ্জের দায়িত্বশীল নেতা, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেছেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ধকেন্দ্রীয় এক নেতার এক পদ হওয়ায়, কিছু কাজ শেষ করেই, আমি জেলা কমিটি থেকে বিদায় নেব’। অবশ্য, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘সদস্য কোন পদ নয়, সদস্যরা জেলার সভাপতি ও সম্পাদক হতে পারবে’।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ত্রিধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
গত আড়াই বছরে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১২ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৪ টি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা এখনো রয়েছে। তবে জেলা বিএনপি জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভপুর,  সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোয় সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
সম্প্রতি. বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় এক নেতার এক পদ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. রফিক চৌধুরী সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা বিএনপির পদ ছেড়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কমিটি গঠনের বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জেলা বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি, কেন্দ্রীয় কমিটি হবার পর আলোচনা হবার কথা ছিল, এখন সেটি হবে। আমার কিছু অসমাপ্ত কাজ বাকী রয়েছে, সেগুলো শেষ করে শীঘ্রই আমি জেলা কমিটির পদ ছেড়ে কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবো’।
এই অবস্থায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন ? এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ওয়াকিপুর রহমান গিলমানের নাম আলোচনায় রয়েছে অনেক দিন ধরেই।
একইভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাদীর আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল হক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত এবং জেলা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুলের নাম আলোচনায় রয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন,‘জেলায় আমরা গতিশীল নেতৃত্ব চাই, যে নেতৃত্ব পুরো জেলায় দলকে আরো শক্তিশালী করতে পারবে। আমাদেরকে ডাকলে আমরা সেভাবেই কেন্দ্রীয় নেতাদের জানাবো’।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন,‘কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর জেলা কমিটি হওয়ার কথা ছিল, এখন হয়তো কেন্দ্রীয় সেই উদ্যোগ, তবে আমাদের এখনো কিছুই জানানো হয়নি’।
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘আমাকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে, সদস্য কোন পদ নয়, কেন্দ্রীয় সদস্য হয়ে জেলার সভাপতি ও সম্পাদক হওয়া যায়। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতিও কেন্দ্রীয় সদস্য হয়েছেন, দলীয় চেয়ারপার্সনও এই বিষয়টি পরিস্কার করেছেন’।