বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব, এমন কিছু বাঁধেও বছরে বছরে সংস্কারের নামে কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে । জেলার শাল্লার ফয়জুল্লাপুর থেকে আমিরগঞ্জ পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ডানতীরে রয়েছে এ ধরণের একটি বাঁধ । শাল্লার ভেড়াডহর ও ভা-া বিলের জমিসহ হাওরের তলানির উপজেলা শাল্লা, নেত্রকোণার মদন, কালিয়াজুরি এবং কিশোরগঞ্জের ইটনার হাওরের ফসলি জমি অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা হয় এই বাঁধে । বাঁধের পাশের গ্রামবাসী বললেন, প্রতিবছর এসব বাঁধে সংস্কারের জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, অথচ. এই বাঁধ স্থায়ীভাবে করা সম্ভব। তাতে শতাধিক গ্রামের যোগাযোগ সড়কে রূপ পায় এটি। স্থায়ী বাঁধ হিসাবে তৈরি করা গেলে লাখো মানুষের চলাচলেও উপকারে আসে বাঁধটি।
ভেড়াডহর হাওরপাড়ের কান্দিগাঁওয়ের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বললেন, গত প্রায় ২০ বছর ধরে ফয়জুল্লাপুর-আমিরগঞ্জ বাঁধে সংস্কারের নামে টাকা লুটপাট হয়। যেখানে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করলে হয়, সেখানে ব্যয় হয় ২০ লাখ টাকা। এই বাঁধটি নৌ চলাচলের জন্য কখনো কেটে দিতে হয় না। অনেক উচ্চতার এই বাঁধকে কেন স্থায়ী বাঁধ করা হয় না, আমরা জানি না। তিনি জানালেন, ফয়জুল্লাপুরে এখন যে বাঁধ আছে, সেটিকে সামান্য উঁচু করে মার্কুলি থেকে শাল্লা পর্যন্ত সড়ক করা যায়।
হাওরপাড়ের মুছাপুরের বিষ্ণু পদ বৈষ্ণব বললেন, ফয়জুল্লাপুর থেকে আমিরগঞ্জ পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের বাঁধ স্থায়ীভাবে করতে কোন বাধা নেই। এই বাঁধটি প্রতিবছর ঢেউয়ে কিছু ভাঙে এবং সংস্কারের নামে বছরে বছরে কোটি টাকা ব্যয় হয়। গত ১০ বছর ধরেই এমন অবস্থা দেখছি আমরা। অথচ বাঁধের দুই পাশে ব্লক বিছিয়ে পাকা করলে এটি মার্কুলি থেকে আমিরগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াতের সড়ক হয়। পাকা করা না গেলে গাছ গাছালি লাগানো যেতে পারে। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে বাঁধটি করলে এটি দেখার জন্য আসবে মানুষ।
একই গ্রামের রঞ্জন বৈষ্ণব বললেন, অনেকের বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, এই জন্য এই বাঁধ স্থায়ীভাবে করার চিন্তা করা হয় না। এই বাঁধ স্থায়ীভাবে করলে শতাধিক গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সড়ক হতো এটি।
পাউবো’র শাল্লা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাইয়ুম জানালেন, এই বাঁধে গত বছর প্রায় ৮০ লাখ টাকা সংস্কারের জন্য ব্যয় হয়েছে। এবছরও এই বাঁধে সংস্কারের কাজ করা লাগবে বলে দাবি করলেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান স্থানীয় মানুষের দাবির সঙ্গে একমত পোষন করে বললেন, এটি সত্য এখানে স্থায়ী বাঁধ করলে বছরে বছরে এতো টাকা ব্যয় করা লাগবে না। কিন্তু স্থায়ী বাঁধের জন্য যে বরাদ্দ প্রয়োজন সেটি না পেলে, সংস্কারের কাজই করতে হবে। স্থায়ী বাঁধের একটি প্রকল্পও দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে এবং পাশের কুশিয়ারা নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা গেলে, এই বাঁধ স্থায়ী হতে পারে। বাঁধে গেল বছরে কোন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হয় নি দাবি করে এই কর্মকর্তা বললেন, চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী ফয়জুল্লাপুর-আমিরগঞ্জ বাঁধে কাজ হয়েছে, অতিরিক্ত কোন টাকা ছাড়ের সুযোগ ছিল না।


