কেরানি তৈরি’র শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার-পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেছেন, কেরানি তৈরি’র শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সমন্বিত সিলেবাস, সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা আধুনিক যুগপোযোগি শিক্ষাধারায় নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করতে চাই। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল কাজের কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এমন চিন্তা করেন বলেই বিদেশী গ্রহণযোগ্য সংস্থাগুলোর জরিপেও এখন দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনাকে সমর্থন করেন।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে, বাহুল্যতা বর্জন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে মিতব্যয়ী হতে হবে সকল শিক্ষার্থীকে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়েই খাবার দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল শিশুদের একই ধরনের খাবার খাওয়াতে আগ্রহী।
মন্ত্রী পারিবারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবারে যত বেশি ভাল শিক্ষা শিশুরা পাবে, সকল ক্ষেত্রে সেটি কাজে লাগাবে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল জনপদের সমান উন্নয়ন করতে চান। ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই-শাল্লা কিংবা দক্ষিণ সুনামগঞ্জকে আলাদা করে দেখার কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, আমি শান্তিগঞ্জে কী করলাম সেটি নিয়ে আক্ষেপ করার কিছু নেই। আমি সুনামগঞ্জ থেকে উঠিয়ে নিয়ে করছি না। শান্তিগঞ্জ সুনামগঞ্জ থেকে আলাদা কোনো জনপদ নয়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ শান্তিগঞ্জে হয় নি, হয়েছে উপযুক্ত স্থানে, যেখানে হলে শহরের বা জেলার সকল মানুষের উপকার হয়। আমি ইচ্ছ করলেই শহরের কোন আবাসিক এলাকায় একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জমি বের করতে পারবো না।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জমিও ওই দিকেই নির্ধারণ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ৫০০ একর জমি সুবিধাজনক স্থানে পাওয়া কঠিন কাজ। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় বড় বিশ^বিদ্যালয় শহরের বাইরেই হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ শহর থেকে বের হবার পথ। নদীর ওপারে বা দোয়ারাবাজারে বিশ^বিদ্যালয় করা যৌক্তিক হবে না। তিনি বলেন, আমি সুনামগঞ্জ বা হাওরবাসীর স্বপ্নপূরণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের খসড়া আইন মন্ত্রীপরিষদের সভায় অনুমোদনের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছি। এখন কোথায় হবে প্রতিষ্ঠানটি, এর জমি নির্বাচন করবেন আপনারাই। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ- নেত্রকাণা সড়কের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। হাওরের ঢেউ দেখে দেখে সুনামগঞ্জ থেকে নেত্রকোণা পৌঁছানো যাবে। সুনামগঞ্জে রেল আসবে, এই রেল মোহনগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। এই দিন বেশি দূরে নয়।
দুটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানেই সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। পৃথক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফয়েজুর রহমান, সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো মাশহুদ চৌধুরী।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি শিক্ষক ঝলক রঞ্জন তালুকদার এবং সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি শিক্ষক শওকত আলী আহমদ ও ইলি রানী বৈষ্ণব।
পরে দুটি প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।