কোটি টাকার বিরোধ শালিসে নিষ্পত্তি

স্টাফ রিপোর্টার
ব্যবসায়ী আ.স.ম খালিদ পীরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগরের একটি ইটভাটায় লুটপাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার বিরোধ শালিসে নিষ্পত্তি হয়েছে। শনিবার রাতে ছাতক বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে এ শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়, সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী আ.স.ম খালিদ পীরের মালিকানাধীন নাছিরনগর     উপজেলার বলাকোট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে অবস্থিত ইটভাটায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা উৎপাদিত ইট লুট এবং উৎপাদনে বাধা প্রদান করেন। একারণে প্রায় তিন কোটি ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। সালিশে অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী খালিদ পীরকে আগামী দেড় মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের এক কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন বলে  সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত অভিযোগকারি এবং অভিযুক্তরা  আপত্তি ছাড়াই মেনে নেন।
জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে নাছিরনগর উপজেলার বলাকোট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামের মেসার্স মেঘনা ব্রিকস  ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী খালিদ পীর। ইট উৎপাদনের পর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র জোরপূর্বক তাকে ইটভাটা থেকে বের করে দেয়। পাশাপাশি উৎপাদিত ইটের বড় একটি অংশ লুটপাট হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার-শালিস ও মামলা মোকদ্দমা এবং স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপের পরও ইটভাটায় অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হন খালিদ পীর। একারণে তিন কোটি ১৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
নাসিরনগরে সুবিচার না পেয়ে ব্যবসায়ী খালিদ পীর সুনামগঞ্জ চেম্বার এবং  সদর, ছাতক, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার বালু-পাথর এবং কয়লা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান। শেষে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় শনিবার রাতে ছাতকে সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ীরা শালিস বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ব্যবসায়ী খালিদ পীরের ক্ষয়ক্ষতি এবং ইটভাটার মূল্য বাবদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা আগামী দেড় মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান নাসিরনগরের অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা।
ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবরু মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম ঝুনু, সুনামগঞ্জ বালু-পাথর সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান দ্বারা, দুর্লভপুর বালু পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, ছাতক উপজেলা বালু পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল চৌধুরী, সুনামগঞ্জ চেম্বারের সহ-সভাপতি শামসুল হক, সাবেক সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, আ.লীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান, জেলা জাপার যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলী খুশনূর, আওয়ামীলীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী, ফাজিলপুর বালু পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছয়ফুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত, নূরুল হক ও আব্দুল ওদুদ, সাবেক কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া, ব্যবসায়ী  আব্দুল হাই আজাদ, ফজলু চৌধুরী, সালিক চৌধুরীসহ সুনামগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈকিত নেতৃবৃন্দ।