খরার নেড়াও ভালা

পি সি দাশ, শাল্লা
এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় হাওরে যেতে হলে পা থেকে স্যান্ডেল আর খুলতে হয় না। এর চেয়ে সুন্দর বৈশাখ আর হতে পারে না। কথায় কয়না খরার নেড়াও ভালা। খাড়া (রোদ) থাকায় ধান কাটা, মাড়াই, ধান শুকানো, খড় শুকানো দিনেরটা দিনে দিনে শেষ করে একেবারে ধান গোলায় উঠে। এটিই সোনালী বৈশাখ, একারণে কৃষকরা খুবই আনন্দিত। কথাগুলো বলছিলেন শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওর পাড়ের নিয়ামতপুর গ্রামের প্রবাসী সুবোধ চক্রবর্ত্তী (৫২)।
এসময় পাশে আনন্দপুর গ্রামের কৃষক কৃপেশ চন্দ্র দাস জানান, এবারের মত বৈশাখ খুব কমই মাইমু। দিন ভালা রইদ (রোদ) ও আছে, মেঘ বৃষ্টি নাই, দেখতে দেখতে হাওরের ধান কাটা শেষের পথে। ৩/৪ দিন এলাকান দিলে সব ধান কাটা শেষ হইবো। ধানের দর (দাম) ও ভাল মোটা ৭০০ টাকা আর চিকন ধান ৭৬০ টাকা ধরে অনেকেই বিক্রি করছে।
পাশের নওয়াগাঁও গ্রামের অভয়চরন দাস জানালেন, চৈত্র মাসে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের সামান্য ক্ষতি হলেও এবারের বৈশাখ সোনার বৈশাখী। আমি ৭ কেয়ার বোরো জমিতে ফসল করেছি। সব মিলিয়ে ফলন ভালোই হইছে। আর ২/৩ দিন সময় পাইলে সবটুকু জমির ফসল কেটে আনতে পারবো।
মঙ্গলবার সকালে শাল্লার ছায়ায় হাওরে গিয়ে দেখা যায়, মাখন লাল দাস (৮২) আনন্দের সাথে বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান নাতি-নাতনীদের সঙ্গে ধান মাড়াই কাজে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ৩৩ কেদার জমি করছি, শিলাবৃষ্টি ও পোকায় কিছু ক্ষতি হলেও এবার খুব সুন্দর বৈশাখী।
বান্ডাবিল হাওরের হরিনগর গ্রামের শিমুল দাস বলেন, ২৬ কেদার জমি করেছি, ফসলও ভাল হয়েছে। তিনি জানান, বৈশাখ ভাল হওয়ায় রবিবারেই সকল জমির ধান কর্তন করেছেন। এমন বৈশাখ হলে আগামীতে আরো বেশি জমি করবেন বলে আনন্দে হাসি দেন।
ছায়ায় হাওরে পশ্চিম পাড়ের মামুদনগর গ্রামের বড় কৃষক হাবিবুর রহমান হবিব বললেন, আমার বয়স (৫৫) অইছে, ইবছরের লাখান (এবারের মতো) বৈশাখী একবারও মাইনসে ওঠাইতে দেখছি না। এমন দেওয়া দিছইন আল্লায়, বিলের (জলমহালের) তল (নীচে) থাকিও ইবার ধান আনবো মাইনসে।
তিনি বলেন, এবার সকল হাওরের কৃষকের মনে আনন্দ আছে। তবে তিনি বলেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় এবং লাগাতার খরায় ধানের ওজন এবার কম হয়েছে। চৈত্র মাসের শিলাবৃষ্টি ও পরে পোকার আক্রমণে এই উপজেলার কিছু কিছু এলাকার ধান কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
কালিকোটা হাওরপাড়ের কাশিপুর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক বলেন, হাওরের ৮৫ ভাগ ধান কাটা শেষ। বৈশাখও ভাল, ধান ও খের প্রতি ১৮/২০ মণ অইছে। তিনি আরো বলেন, শাল্লার হাওরগুলোতে হীরা, জনক, কৃষিবিদ, উনত্রিশ, বিজলী, লাল তীর, আটাইশ, সোনার বাংলা, প্রজাতির ধানের চাষাবাদ বেশি হয়েছে। আর মাত্র ৫ /৭ দিন সময় পাইলে সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে জানান।