ধানের দামে হতাশ কৃষক

সাইদুর রহমান আসাদ
কৃষকদের ধান ন্যায্য মূল্যে কেনার দাবি জানিয়ে আসছিলো সুনামগঞ্জের কৃষক সংগঠনগুলো। কিন্তু এবার ধানের দাম মণ প্রতি ৪০ টাকা বেড়েছে। এই ৪০ টাকা বৃদ্ধি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীন বাজার থেকে ধান ২৭ টাকা কেজি নির্ধারণ করা কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে একমণ ধানের দাম হয় ১০৮০ টাকা। যা গত বছর ছিলো ১০৪০ টাকা। সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ তথ্য জানান।
ধর্মপাশার বান্নার হাওর ও ধারাম হাওরে ১৪ কেয়ার বোরো ধানের আবাদ করেছেন কৃষক আবু সিদ্দিক। তিনি বললেন, ১০৮০ টাকা ধরে ধান বিক্রি করলে লোকসান। কারণ আমাদের খরচ হয় অনেক। ঋণ করে ধান চাষ করেছি। দুইশ মণ ধান বিক্রি করে পাওনাদারের এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. এরশাদ বললেন, বৈশাখ মাসে এমনিতেই ধানের দর কম থাকে। আবার বৈশাখ মাস গেলেই হু হু করে দাম বেড়ে যায়। গেল চৈত্র মাসে বেসরকারিভাবেই ১২০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করা গেছে। এখন সরকার এর থেকেও কম দামে ধান কিনবে। তাহলে কৃষক যাবে কোথায়? আমাদের তো লোকসান।
জেলা কৃষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে কৃষকের ধান কাটা প্রায় শেষ। এখন মাড়াই ও শুকানো হচ্ছে। এসব ধান অনেকে খলায়ই বিক্রি করে দিচ্ছেন কৃষক। কারণ যখন সরকারের ধান কেনার কথা তখন কিনে না। এই সুযোগ নেয় মিল মালিক ও ফরিয়া ব্যবসায়ীরা। ধান আবাদ করতে যে ঋণ নিয়েছিলেন মহাজনের কাছ থেকে তা পরিশোধ করতে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি, কমপক্ষে ১৫০০ টাকা প্রতিমণ ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনার জন্য এবং বৈশাখ মাসের শেষের দিক থেকেই কেনা শুরু করতে হবে। নয়তো কৃষকদের বাঁচানো যাবে না।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু বলেন, কৃষকরা সব দিকেই বঞ্চিত। অনেক সময় হাওর ডুবে ফসল হানি হয়। তবে এবার কৃষকের সোনার বৈশাখ পেয়েছে। ধান কেটে শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারছে। কিন্তু ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি ধানের দাম বাড়িয়ে ন্যায্য মূল্যে কেনার জন্য। এবার বেড়েছেও। তবে মাত্র ৪০ টাকা। সেটা কৃষকদের নিয়ে উপহাস করার মতো। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়ে। বাড়েনা শুধু কৃষকের ধানের দাম।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তা নকীব সাদ সাইফুল ইসলাম বললেন, সরকার ধানের দাম নির্ধারন করে দিয়েছে। সে দাম অনুযায়ী প্রতিমাণ ধানের দাম পড়ে ১০৮০ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা ১৫০০ টাকা প্রতিমণ ধানের দাম নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে যারা রয়েছেন তারা ধানের দাম নির্ধারণ করেন। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, হাওরে প্রায় ৮২ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। আগামী ৫ মে’র পর ধান কাটার বাকি থাকবে না কোনো হাওরে। এবারের বৈশাখ ভালো হয়েছে। ক্ষেত থেকে ধান গোলায় তুলতে পেয়ে খুশি কৃষক।