সু.খবর ডেস্ক
উৎপাদন পরবর্তী খাদ্যের অপচয় রোধে গবেষণার তাগিদ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘পোস্ট হারভেস্ট লস্ট কীভাবে কমানো যায়, এ বিষয়ে গবেষণা করুন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন বেশি গবেষণা হচ্ছে না। গবেষণার জন্য এ সরকার উন্মুখ হয়ে আছে।’
সোমবার রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফোরামের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি গবেষকদের প্রতি এই আহ্বান জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেল কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. অধ্যাপক শামসুল আলম ও কৃষি গবেষক এমএ রহিমকে ‘রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ দেওয়া হয়। কৃষি গবেষণায় অবদান রাখার জন্য তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
গবেষণার জন্য বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ রয়েছে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ কেউ বলেন, এত প্রতিষ্ঠান কেন? ১৬ কোটি মানুষের দেশ এটা। আনুপাতিক হিসাব করলে আমরা এখনো ওই পর্যায়ে যাইনি, যে লেভেলে পশ্চিমারা আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আরও বেশি প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে। মান নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও করেন। তার ধারণা, চাপের মুখে মানোন্নয়ন হবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষিখাতে সত্যিকারের বিপ্লব হয়েছে। এই বিপ্লবে গবেষকদের অবদান ব্যাপক।’
বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করা ও বছরে কয়েকবার ফলন পাওয়ায় কৃষি গবেষকদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘কাঁঠালকে আরেকটু ছোট কীভাবে করা যায় আপনারা তা গবেষণা করতে পারেন। এখন কাঁঠালের আকার অনেক বড় হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
‘কচুরিপানা খেতে বলা’ নিয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, গবেষণা করতে ভয় কেন? আমরা যে কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে পারি। গবেষকদের পরামর্শ দিতে বলেছি, নিউজ করতে বলিনি। বিষয়টি এভাবে আসবে ভাবিনি। আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে আমরা যে কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করার জন্য বলতে পারি।
গত সোমবার কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমসহ মঙ্গলবার কয়েকটি দৈনিকে ‘সাবাইকে কচুরিপানা খাওয়ার পরামর্শ দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
একনেক সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কচুরিপানার বিষয়ে আমার কৃষি গবেষকদের বলেছি। কাউকে কচুরিপানা খাওয়ার জন্য আমি কখনও বলি নাই। আমি বাঙালি, এই দেশের মানুষ। আমি কীভাবে কচুরিপানা খাওয়ার কথা বলি? তাহলে আমি কি কচুরিপানা খাই? আপনারাই বলেন। আমি আমার গবেষকদের গবেষণা করতে বলেছি। গবেষণা তো কত কিছু নিয়েই করা যায়। আমি শুধু কচুরিপানা নয়, কাঁঠাল ছোট করার বিষয়েও আমার গবেষকদের গবেষণা করতে বলেছি।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতা আছে কিন্তু সেটা যেন শুদ্ধ চর্চা হয়। আমি আশা করি প্রিয় সাংবাদিকরা দয়া করে এই বিষয়টি ভবিষ্যতে খেয়াল রাখবেন। কারণ স্বাধীন সাংকাদিকতা মানে যা খুশি তা লিখে দেয়া নয়। সবাই যেন বিষয়টি বুঝে শুনে লিখি।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রূপান্তর কৃষিতেই হয়েছে। ওখান থেকে অন্যান্য ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষিসহ অন্য ক্ষেত্রে গবেষণা আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছি। এর পর হাসতে হাসতে রশিকতা করে আমি গবেষকদের বললাম, আর কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কিনা দেখেন। পাশ থেকে একজন গবেষক বললেন, কচুরিপানা গরু খায় স্যার। তখন গবেষকদের কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি। আবারও বলছি কাউকে খাওয়ার জন্য বলিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কি বলেছি, বাংলার মানুষ সব কচুরিপানা খান, ননসেন্স। আচ্ছা, আমি কি বাংলার মানুষ নই, আমার মা-বাবা কি বাংলার মানুষ নয়। এটা কী ধরনের কথা হলো।’
এম এ মান্নান বলেন, ‘থাইল্যান্ড বিভিন্ন কৃষি পণ্য নিয়ে গবেষণা করছে। যেমন তারা পেয়ারা থেকে বিচি দূর করে ফেলছে। সেই পেয়ারা আমরা খাচ্ছি এখন। সেইজন্য বলেছি, আমাদের বাংলাদেশে কি এসব করা সম্ভব না? সেই প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম, গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করা যায় কি না।
সংবাদ সম্মেলনে নিউজ ভুলভাবে উপস্থাপন করার জন্য সাংবাদিকেরা দুঃখ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক লুৎফুল হাসান ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
- মঞ্চস্থ হলো ভাষা আন্দোলনের পটভূমি নিয়ে নির্মিত নাটক ‘কবর’
- জগন্নাথপুরে টমটমের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার


