খাদ্য গোদাম কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদাম হতে কালো বাজারে চাল পাচারের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া, তার সহোদর (বড় ভাই) খাদ্য গোদামের নৈশ প্রহরী মো. কারী মিয়া, রাইস মিল মালিক আলী হায়দার ও চাল ব্যবসায়ী শফি আলমের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২ টায় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী অজয় কুমার দাস বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী রাইস মিল মালিক আলী হায়দার ও চাল ব্যবসায়ী শফি আলমকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আমলগ্রহণকারী তাহিরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মঙ্গলবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম’ এর নির্দেশে এই মামলা দায়ের হয়। রাতেই পুলিশ রাইস মিল মালিক তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের আলী হায়দার ও রতনশ্রী গ্রামের চাল ব্যবসায়ী শফি আলমকে গ্রেফতার করে। অপর আসামী ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম আউলিয়া ও তার ভাই নৈশ প্রহরী মো. কারী মিয়াকে গ্রেফতারের        জন্য সংশ্লিøষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।
তাহিরপুর থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম হতে সুলেমানপুর বাজারে নিয়ে যাওয়ার পথে খাদ্য গোদামের কাজে নিয়োজিত দু’টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলিতে থাকা বস্তাতে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ লিখা ৫০ কেজি ওজনের ১শ’ বস্তা চাল জব্দ করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। জব্দকৃত ১০০ বস্তা চাল তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদাম থেকে পাচার করা হয়েছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাহিরপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সুলেমানপুর নদীর ঘাটে গিয়ে জব্দ করে। এই চালের মধ্যে ২৮ বস্তা চাল বিশ্বম্ভরপুর খাদ্য গোদামের ছিল। পরে জব্দকৃত ওই ১০০ বস্তা চাল নিজেদের হেফাজতে এনে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন থানার ওসি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তাহিরপুরের খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া, তার বড় ভাই খাদ্য গোদামের নৈশ প্রহরী মো. কারী মিয়া, চাল ব্যবসায়ী শফি আলম এবং ট্রলি চালক হরমুজ আলী ও জাহাঙ্গীর মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সবার জবানবন্দিতে ওই চালগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া, তার ভাই গোদামের নৈশ প্রহরী মো. কারী মিয়া, চাল ব্যবসায়ী শফি আলম ও মিল মালিক আলী হায়দারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজ্জু করার নির্দেশ দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক মিল মালিক আলী হায়দার ও চাল ব্যবসায়ী শফি আলমকে গ্রেফতার করে।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী অজয় কুমার ধর বাদী হয়ে রাত ২ টায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া এবং তাঁর ভাই মো. কারী মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুমতি পত্র পাঠিয়েছেন।’ তিনি জানান, অজয় কুমার ধরের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে ৫০ কেজি’র চালের বস্তাগুলো মঙ্গলবার সকালেই খাদ্য গোদাম থেকে বের হয়েছে। মামলাটি দুদক’র সিডিউলভুক্ত হওয়ায় দু’একদিনের মধ্যেই দুদক’র কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বুধবার দুপুরে বলেন, ‘চাল জব্দের পর সকল স্বাক্ষ্য প্রমাণে পরিস্কারভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, তাহিরপুর খাদ্য গোদাম থেকেই চালগুলো ট্রলিতে ওঠানো হয়েছে। স্বাক্ষীর বক্তব্যে বুঝা গেছে এঘটনায় খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা জড়িত। এজন্য খাদ্য গোদাম কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া বলেন,‘বর্তমানে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ৩০ কেজি’র চালের বস্তা বিতরণ হচ্ছে। বুধবার সকালেও জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ গোদামের ৫০ কেজি’র চালের মওজুদের হিসাব সঠিক পাওয়া গেছে। সুতরাং এই চাল গোদাম থেকে যায়নি।’ গোলাম আউলিয়ার দাবি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা বিতরণকৃত চালের বস্তা অনেক সময় বিক্রি করেন। ঐ বস্তা কিনে মিলার চাল বস্তাবন্দি করতে পারেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বুধবার তাহিরপুর খাদ্য গোদামে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। দুপুরে আব্দুর রউফ এ প্রতিবেদককে বলেন,‘তাহিরপুর খাদ্য গোদামে প্রাথমিক তদন্তে বুঝা গেছে ৫০ কেজি’র চালের মওজুদে কোন কমতি নেই। অধিকতর তদন্ত হলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে।’ খাদ্য গোদামের চাবি কার কাছে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘গোলাম আউলিয়ার কাছেই আছে। যেহেতু অফিসিয়েলি এই বিষয়ে এখনো কোন চিঠি পাওয়া যায়নি। সেহেতু এখনো এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।’ বিশ্বম্ভরপুর খাদ্য গোদামের মওজুদ আজ (বুধবার) বিকালেই যাচাই হবে বলে জানান তিনি।