জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর-পাগলা সড়কের পাশে মমিনপুর হাওরে অনাবাদি জমিতে এক কৃষক দুই শিশুকে নিয়ে লাঙ্গল দিয়ে চাষাবাদ করছেন। রবিবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা যায় মমিনপুর হাওরে। কথা হয় কৃষক অনিল দেবনাথের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, দুই বছর বোরো ফসল হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আট সদস্যর পরিবার নিয়ে তিনি খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাননি সরকারি বেসরকারি কোন সুবিধা। হালের কোন বলদ না থাকায় নিজের দুই ছেলেকে নিয়ে লাঙ্গল দিয়ে সবজি চাষাবাদ করছেন তিনি।
মমিনপুর হাওরের কৃষকরা জানান, এক সময় মমিনপুর হাওরে সবুজের সমারোহ ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে পলি পড়ে হাওরটি অনাবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। সেই অনাবাদি জমিতে বোরো আবাদের
চেষ্টা করেও সেচ সংকটের কারণে বোরো আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।
কৃষক অনিল দেবনাথ জানান, নিজের কোন জায়গা জমি নেই। ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়ে তিনি অন্যের জায়গায় বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে মমিনপুর হাওরের অনাবাদি জমিতে গত দুই বছর ধরে বোরো আবাদ করছেন। অনেক কষ্টে পানি এনে আবাদ করে ফসলের দেখা পেলেও প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে ফলন ঘরে তুলতে পারেননি। এবার তিনি নিরুপায়, টাকা পয়সা না থাকায় গরু কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করার ক্ষমতা নেই। তাই দুই ছেলে কে নিয়ে লাঙ্গল দিয়ে চাষাবাদ করছেন। স্ত্রী সরলা বালা দেবনাথ লাঙল টানায় সহযোগিতা করছেন।
কৃষক অনিল দেবনাথের ছেলে দ্বিপক দেবনাথ ও ইমন দেবনাথ জানান, বাবার কষ্ট দেখে আমরা দুই ভাই বাবাকে সহযোগিতা করছি। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় দুই বোন কলেজে ও ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, কৃষক অনিল দেবনাথ নিজের জমি না থাকার পরও অন্যের জমিতে চাষাবাদ করছেন। তাঁর মতো কৃষকরা হাওর অঞ্চলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সামান্য সার বীজ দিয়ে তাকে সহায়তা করা হয়েছে। সুযোগ পেলে তিনি কৃষিতে ভাল করতে পারতেন।
- হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি মামলা চলতে বাধা নেই
- সরকারি কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষে ভর্তি ফি কমলো ৮৫০ টাকা


