স্টাফ রিপোর্টার
ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষের ভর্তি ফি কমেছে ৮৫০ টাকা। আজ বুধবার থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুছ ছত্তার এবং উপাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ছাত্রদের ভর্তি ফি কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। গত সোমবার কলেজ কর্তৃপক্ষের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা থেকে অনার্স ৩য় বর্ষের ভর্তি থেকে পরিবহন, অভ্যন্তরিণ পরীক্ষা, অধিভুক্তি ফি, আইসিটি, আ্ইডি কার্ডের ৮৫০ টাকা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুনর্বিবেচিত সিদ্ধান্ত অনুসারে ভর্তি ফি বাবদ ২৬৬০ টাকার পরিবর্তে ১৮১০ টাকা নেয়া হবে।
গত ১৩ ডিম্বেম্বর থেকে অপ্রয়োজনীয় খাত থেকে টাকা আদায় বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন। কলেজ প্রশাসন এক্তিয়ার ভুক্ত খাত থেকে ৮৫০ টাকা বাদ দেন।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুছ ছত্তার এবং উপাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘ বাতিলকৃত খাতে আর কখনো টাকা নেয়া হবে না।’
এছাড়াও ভর্তি ফি আরো কমানো যায় কিনা সেসব বিষয় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন।
এদিকে ভর্তি ফি কমানোর ঘোষণার পর কলেজের অনার্স ভবনের সামনে দুপুর ১২ টায় ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য, ওমর ফারুক, সুকান্ত দত্ত, মলয় চন্দ কর, তহুর আহমেদ, মনির হোসেন, জাহিদ মিয়া, জামিল আহমেদ, সূর্যসেন রায়, মো. আনিসুজ্জামান , জয়ন্ত দাস প্রমুখ।
পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবগত করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা সকল ধরনের ফি মওকুফের দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক বছরের জন্য সব ধরনের ফি মওকুফের বিষয়টি বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজৈর অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েকটি খাতের টাকা ভর্তি ফি থেকে বাদ দিয়েছেন। পরিবহন ২০০, অভ্যন্তরিণ পরীক্ষা ৪০০, অভিভুক্তি ফি ১০০, আইসিটি ১২০, আ্ইডি কার্ড ৩০ টাকা বাদ দেয়া হয়েছে। ২৬৬০ টাকা থেকে ভর্তি ফি কমিয়ে ১৮১০ টাকা করা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এইসব খাত থেকে আর টাকা না নেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়।’
উল্লেখ্য, বেতন ছাড়া সকল খাতের ফি মওকুপের দাবিতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলনে নামে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের কাছে আবেদনও জানায় শিক্ষার্থীরা।


