পুলক রাজ
সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সংগীত অন্যতম। সুনামগঞ্জ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি অনুসারে গানের অনেকগুলো ধারা রয়েছে। এসকল ধারায় রয়েছেন অসংখ্য সংগীত শিল্পী। অসংখ্য সংগীত শিল্পী থাকলেও তাদের মধ্যে কয়কজন তাদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে শ্রোতা হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদেরই একজন পৌর শহরের তরুণ সংগীত শিল্পী সোহেল রানা। বয়সে তরুণ হলেও ইতোমধ্যেই সংগীত জগতে গড়ে তুলছেন নিজের অবস্থান। লোক সংগীত দিয়ে শুরু করলেও
নজরুল, রবীন্দ্র ও আধুনিক গানও করেন তিনি।
২০০০ সাল থেকে গানের জগতে পথচলা সোহেল রানার। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ ছিলো। মামা
আব্দুল সোবহানও উৎসাহ দিতে থাকেন তাকে।
জেলা শিল্পকলার সংগীত শিক্ষক ওস্তাদ এমরান
আলীর কাছে ১০ বছর ও ওস্তাদ দেবদাস চৌধুরী
রঞ্জনের কাছে ৫ বছর তালিম নিয়েছেন।
বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের সাথে
জলসা ঘরে গান করেছেন সোহেল রানা।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে
দেশের জনপ্রিয় শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ এর
সাথে এক মঞ্চেও সংগীত পরিবেশন করেছেন
তিনি । বাংলাদেশের ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহর ও ভারতের
শিলং এ স্টেজ প্রোগ্রামে সুনামগঞ্জের লোক কবিদের সঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন । গান করেছেন
সিলেট বিপিএল, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বৈশাখী
কনসার্ট, চট্রগ্রাম লোক উৎসবে। এটিএন, এনটিভি,
চ্যানেল আই, বাংলাভিশনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গান করেছেন। লন্ডন ভিত্তিক চ্যানেল এসএ প্রায় ৪০ টি গান করেছেন। ২০০৬ সালে স্থানীয়ভাবে ‘মনপাখি’ নামে একটি গানের এ্যালবাম বের হয়। সেই এ্যালবামে সোহেল রানা এবং নাছির আহমেদ গান করেছেন। গীতিকার ছিলেন জহরত আরা খানম ও সুরকার ছিলেন উস্তাদ এমরান আলী। সিলেট বেতারে লোক ও আধুনিক গানের তালিকাভুক্ত সংগীত শিল্পী তিনি।
সংগীত জীবনে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর সংগঠন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম ১০ জনের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। ২০১০ সাল থেকে স্পন্দন সংগীত বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখন জেলা শিল্পকলা একাডেমী, শতদল শিল্পীগোষ্ঠী, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী, এবং সুনামগঞ্জ শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক হিসেবে আছেন তিনি। সোহেল রানার প্রিয় শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, মান্না দে। গানের পাশাপাশি রয়েছে অভিনয়ের দক্ষতাও। দেওয়ান মহসিন রেজা’র রচনা ও নির্দেশনায় গেদু চাচার বরই তলা, সামিনা চৌধুরী মনি’র রচনা ও শাহ্ আবু নাসের’র নির্দেশনায় ফুল বানুর বিয়ে নাটকে অভিনয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকার আমপাড়ায় ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম সোহেল রানার। বাবার নাম মৃত. আব্দুুল লতিফ, মা তছলিমুন নেছা। একমাত্র ভাই জুয়েল রানা। ২০১৩ সালের ২১ মার্চ দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ফানাইল গ্রামের রেজুয়ানা আক্তারের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হোন। একমাত্র পুত্র সন্তান আবিদ আহমেদ রাফি।
সংগীত শিল্পী সাহেল রানা বলেন, পথচলায় আমি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। পেয়েছি উৎসাহ-অনুপ্রেরণাও। তবে এই পথ খুব যে মসৃণ ছিল তাও কিন্তু নয়। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগীত জগতে যারাই গান নিয়ে কাজ করেন তাদের সবার একটি স্বপ্ন থাকেÑ নিজের কিছু মৌলিক গান থাকুক। একটি গান আমার পরিচয় বহন করুক। তাই দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই মাসে আমার বুকের লালিত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি নিজের একটি গান রেকর্ড করেছি। আমার এই স্বপ্ন যার জন্য সত্যি হয়েছে তিনি সংগীত শিল্পী ও সুরকার আমাদের অলক বাপ্পা দাদা। গানটির কথা লিখেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদুর রহমান । সঙ্গীতায়োজন করেছেন নাহিয়ান মিজান ভাই, বাঁশিতে ছিলেন দেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক জালাল ভাই। গানটির মিউজিক ভিডিও সম্পাদনায় ছিলেন রাজন ভাই ও অনিক। গানটি জি-সিরিজ থেকে প্রকাশিত হবে। আশা করি আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ইউটিউবে আপনারা গানটি শুনতে পারবেন ভিডিওসহ।


