স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মছব্বির মিয়া। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। লাঠি ভর করে হাঁটেন। দু’চোখ জ¦ালাপোড়া ও পানি পড়ে সবসময়। টানাপোড়েনের সংসারে এতোদিন শহরে এসে চোখের ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্ছিলো না। গ্রামের মাঝে চোখের ডাক্তার আসবে শুনে লাঠিভর করে রবিবার সকাল ১০ টায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান ক্যাম্পে আসেন তিনি। সেখানে ডাক্তার দেখিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ব্যবস্থাপত্র নেন তিনি।
মছব্বির মিয়া বললেন, চোখ দিয়ে সবসময় পানি পড়ে ও জ¦ালাপোড়া করে। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারিনি এতোদিন। গতকালকে শুনেছি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা করা হবে। আজ সকালে বিদ্যালয়ে আসারপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তারা।
গ্রামের অসহায় মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়েছে জনতা চক্ষু হাসপাতাল। রবিবার (৭ মার্চ) দিনব্যাপী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামে এই সেবা প্রদান করে হাসপাতালটি। জয়নাল আবেদীন ট্রাস্ট ও মো. হামিদুল হকের সহযোগিতায় গ্রামের প্রায় ৩০০ মানুষকে এই সেবা প্রদান করা হয়।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়া উজ্জ্বলা রাণী দাস বললেন, শহরে গেলে পরিবহন খরচ, ডাক্তারের ফি, পরীক্ষার খরচ দিতে হবে। অনেক টাকা খরচ। টাকাও জোগাড় করতে পারিনি ডাক্তার দেখানোও হয়নি। আজকে তারা আমাদের গ্রামে আসায় খুবই উপকার হয়েছে। আমরা বিনামূল্যে ডাক্তার, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারছি। কোনো টাকা লাগছে না।
সেবার মাঝে ছিলো যাবতীয় চক্ষু রোগের ব্যবস্থাপত্র, চশমার পাওয়ার পরীক্ষা, চোখের প্রসার পরীক্ষা, চোখের পানির পরিমাণ নির্ণয়, নেত্রনালী পরীক্ষা, প্রেসার নির্ণয় ও ডায়াবেটিক পরীক্ষা।
দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন হামিদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রইছ উদ্দিন, জনতা চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মশিউর রহমান, ডাইরেক্টর মাহেদুল ইসলাম রাজীব, মুহাইমিনুল হক সায়েক, মেডিকেল অফিসার ডা. জেসমিন বেগম, হামিদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন, জমিদাতা ছিদ্দিকুল হক ও মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট মো. সোহেল রানা।
জনতা চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মশিউর রহমান বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ শহরে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করার ক্ষমতা নেই। চোখ আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। অনেকেই চোখের সমস্যায় ভোগছেন। তাদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পৌচ্ছে দিতে আমরা আজকের এই কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছি।


