কুমার সৌরভ
আকাশের শূন্যদ্যান থেকে খসে পড়া সাদা পাথর
এই পাহাড়ে গড়িয়ে আর্দ্র হয়ে যায়।
এমন পতন দেখে কতিপয় দূরের নক্ষত্র
পরষ্পর চোখাচোখি করে প্রতিপদের চাঁদের মতো
অস্পষ্ট হাসি ফুটিয়ে ঠোটে
হারায় আরও দূরে।
পাহাড়ের সবুজ পোশাক থেকে টপটপ
করে গড়ায় জল
দোমেটে বক্ষের ঘাস ডুবে
নামে সমতলে ধানের জমিনে
লোভের বাঁধ ভেঙে কৃষকের কপাল পুড়ায়।
আহারে আমার হাওরিকা
এবার মরবি তবে চন্দ্রসোনারথাল পাড়ের
হাহাকারে ডুবে
মেহেদীর রঙ উঠবে না তোর হাতে
পড়বি না লাল টুকটুক শাড়ি
কেউ আসবে না এই গায়ে বর্ষায়
নৌকায় করে নিয়ে যেতে তোকে।
এবার তুই ডুববি চন্দ্রসোনারথালে।
তুই ডুববি হাওরিকা
পা ভিজবে হাটু ডুববে নিতম্ব যাবে জলের তলে
কোমর ভিজবে বুকখানি তোর টানবে হাওর
একেবারে।
এক মানবীর এই জলপ্রবেশ তখন দেখবে
করসবাগে বসা একজোরা বিরল শকুন
চক-চক করা চোখ নিয়ে,
চিলের পাখায় সান্ধ্যআইন, তিনি দানাপানি
ছেড়ে বন্দী হয়ে আছেন অন্য হিজলের ডালে।
তুই ডুবলে একেবারে হাওরিকা
স্বেচ্ছানির্বাসনমুক্ত হবেন নক্ষত্রগণ,
তাঁদের মুখের ছাচে তখন
ভরা পূর্ণিমার হাসি উছলিয়ে পড়বে
চন্দ্রসোনারথালের রক্তিম জলে।
০৪.০৩.২০১৭


